রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর: নিষ্পত্তি হয়নি ২০ মামলার একটিও

প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২৪

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সাভার বাস স্ট্যান্ডসংলগ্ন ভবন রানা প্লাজা। বেশির ভাগ তলাতেই পোশাক কারখানা। সেই ভবন ধসে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির শিকার হন পোশাক শ্রমিকরা। প্রাণ হারান এক হাজার ১৩৮ জন, পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় আরও এক হাজার ১৬৯ জনকে। এরপর পেরিয়ে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়। কিন্তু এই ১১ বছরে এসেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়নি। শ্রমিকরা পাননি যথাযথ ক্ষতিপূরণ। বিচার শেষ না হওয়ায় মর্মান্তিক সে ঘটনায় দোষীরাও শাস্তি পাননি।

রানা প্লাজা ধসের পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অবহেলাজনিত হত্যার বিচার, হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও দোষীদের শাস্তির মুখোমুখি করতে শ্রম আদালতসহ অন্যান্য আদালতে মোট ২০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে শ্রম আদালতে করা হয় ১১টি মামলা, হাইকোর্টে করা হয় পাঁচটি রিট, থানা ও আদালতে দায়ের করা হয় চারটি মামলা। গত ১১ বছরে এসব মামলার কোনোটিরই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

শ্রম আদালতের মামলা

শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোর বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল পাঁচটি মামলা করা হয়। বাকি ছয়টি মামলা করা হয় তিন দিন পর ২৮ এপ্রিল।

এসব মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— বজলুস সামাদ, দেলোয়ার আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, জাফর আহমেদ, ডেভিড মায়ার রিকো, এ বি এম সিদ্দিক, মনির হোসেন, সোহেল রানা, আনিসুর রহমান, জান্নাতুল ফেরদুস, মো. নজরুল ইসলাম, সুরাইয়া বেগম, এ আর আইয়ুব হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অন্যরা।

এসব মামলার মধ্যে একটিতে আগামী ২৩ মে, ছয়টি মামলায় আগামী ১৫ জুলাই ও চারটি মামলায় আগামী ১১ আগস্ট তারিখে শুনানির দিন নির্ধারণ করা রয়েছে। এসব মামলা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর্যায়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্লাস্ট আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান। সব সাক্ষী না পেলে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যের ভিত্তিতেও মামলা নিষ্পত্তি করা যায় বলে জানান তিনি।

হাইকোর্টে রিট

হাইকোর্টে বিচারাধীন পাঁচটি রিটের মধ্যে ২০১৩ সালের ব্লাস্ট এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে একটি রিট করা হয়। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সরকারকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে বলেছিলেন।