কী কী পরিবর্তন আসছে বিসিএস পরীক্ষায়? প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৪ ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা থেকেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে; প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে ক্রমানুসারে। এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস শেষ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পরীক্ষার পদ্ধতি ও মূল্যায়নে পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সেজন্য লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে ক্রমানুসারে। প্রশ্নের উত্তরগুলো পর পর লিখে যেতে হবে। এছাড়াও লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনছে কমিশন। পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটা বিষয় হচ্ছে কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট, আরেকটি বিষয় হল সময় কমিয়ে আনা। এ দুটি টার্গেট নিয়ে সাড়ে তিন বছর ধরে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এখন আস্তে আস্তে ফল পেতে শুরু করেছি।” ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা থেকেই পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে লিখিত পরীক্ষার উত্তর প্রশ্নের ক্রমানুসারে লিখতে হবে। ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর থেকেই লেখা শুরু করতে হবে। কেউ অন্য কোনো উত্তর আগে লিখলে তাকে আগের প্রশ্নের জন্য জায়গা রেখে দিতে হবে। বিষয়টি আরো সুশৃঙ্খল করতে আর ৪৭তম বিসিএস থেকে উত্তরপত্রেই জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকবে। দ্রুত সময়ে খাতা দেখা শেষ করতে কমিশনে বসেই খাতা দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পিএসসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার গণিতের খাতা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কার্যালয়ে বসেই দেখা হয়েছে। ৯ দিনে গণিতের খাতা দেখার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। যদিও চার দিনে খাতা দেখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরীক্ষকদের সব টিমকে একত্রে না পাওয়ায় সময় কিছুটা বেশি লেগেছে।” লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য প্রতিটি টিমে ১৩ জন সদস্য থাকবেন। একজন পরীক্ষক একটি খাতার একই নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দেখবেন। অর্থাৎ, একজন এক নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেখলে অন্যজন দুই নম্বর দেখবেন। এভাবে ১০ জন পরীক্ষক ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেখবেন। দুজন পরীক্ষক নম্বর যোগ করবেন। আর প্রধান পরীক্ষক কিছু খাতা পুনরায় যাচাই করে দেখবেন। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হবেন না বলেই মনে করছেন সোহরাব হোসাইন। নতুন পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরীক্ষকদের খাতা দেখার আগে প্রশ্নের উত্তরপত্রও সরবরাহ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও গণিতের নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া হবে। আর বর্ণনামূলক প্রশ্নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উত্তর দিয়ে দেওয়া হবে। “একইরকমভাবে যেন প্রত্যেক পরীক্ষার্থী নম্বর পান, যেন প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর একইভাবে দেওয়া হয়, সেজন্য উত্তরটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা থাকবে। এভাবে আমরা দেখছি আমাদের লাভ হচ্ছে। একই স্ট্যান্ডার্ডে খাতা দেখা হচ্ছে। কেউ কম-বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না, বরং খাতাটা আরও দ্রুত দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে আমরা এটা আরও বাড়াব।” মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বের হতে চায় কমিশন। পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, “মেধা যাচাইয়ের জন্য একজন পরীক্ষার্থীকে আমরা কীভাবে প্রশ্ন করব, বা তার কাছ থেকে কীভাবে শোনা যায়, সেক্ষেত্রে প্রচলিত ধারা থেকে আমরা বের হতে চাচ্ছি।” এখন একটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা নিয়ে ভাইভা শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দুই বছরের বেশি সময় লেগে যায়। সবশেষ ৪৩তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়েছে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়েছিল ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর। অর্থাৎ ৪৩তম বিসিএস শেষ করতে সময় লেগেছে ৩ বছর এক মাস। নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে বছরে একটি বিসিএস শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন। তিনি বলছেন, ৪৭তম বিসিএস থেকেই এটা সম্ভব হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। চলতি বছরই ৪৪ ও ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি। SHARES শিক্ষা বিষয়: পরীক্ষারবিসিএসের