শিক্ষকেরা কেন নতুন পেনশন ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন

প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২৪

নতুন পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা বলছেন এতে তাদের সুযোগ–সুবিধা কমবে। শিক্ষকরা তাই এটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন। আজ সোমবার এই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকেরা।

এই অর্থবছর (২০২৪-২৫) থেকে চালু হচ্ছে সর্বজনীন পেনশনের কর্মসূচি ‘প্রত্যয়’। স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর হবে এই স্কিম। তবে এখন যারা চাকরিতে আছেন, তাদের জন্য এটি কার্যকর হবে না। তারা পুরোনো পেনশনের আওতায় থাকবেন। আজ ১ জুলাই বা এর পর থেকে যারাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরিতে যোগ দেবেন, তাদের জন্য পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ কার্যকর হবে।

সরকার বলছে নতুন পেনশন স্কিমে এসব প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী অবসরে যাওয়ার পর আগের তুলনায় প্রতি মাসে পেনশন বাবদ প্রায় পৌণে তিন গুণ বেশি টাকা পাবেন। তাহলে কেন শিক্ষকরা এই পেনশন স্কিমের বিরোধিতা করছেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, নতুন পেনশন স্কিম তাদের জন্য মোটেও লাভজনক নয়। বরং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন যারা যোগ দেবেন তাদের সুযোগ–সুবিধা কমবে। ফলে মেধাবীরা আর শিক্ষকতা পেশায় আসবেন না। সবচেয়ে বড় কথা, বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থা সবার জন্য চালু হচ্ছে না। ফলে সরকারি চাকরিতে থাকা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তাদের বৈষম্য সৃষ্টি হবে। এটি মোটেই স্বাস্থ্যকর কোনো বিষয় হবে না। তারা জানান, এখন পর্যন্ত পর্যালোচনা করে তারা এই পেনশন স্কিমের বেশ কিছু দুর্বলতা পেয়েছেন।

শিক্ষকরা বলছেন, নতুন পেনশন ব্যবস্থায় মাসে মাসে এখনকার চেয়ে ২ দশমিক ৭ গুণ টাকা পাওয়া যাবে ঠিকই। কিন্তু এককালীন কোনো পেনশন সুবিধা থাকবে না। অর্থাৎ অধ্যাপক হিসেবে অবসরের পর একজন শিক্ষক এখন এককালীন ৮০ লাখ টাকার বেশি পান। সেটা আর পাবেন না। তবে এখন অধ্যাপক অবসরে যাওয়ার পর মাসে পেনশন বাবদ পান প্রায় ৪৬ হাজার টাকা । তখন পাবেন ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে এক লাখ ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত (ব্যক্তি কত বছর চাকরি করছেন তার ওপর নির্ভর করবে)।

শিক্ষকদের মতে, তাছাড়া বেতন থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশনের জন্য টাকা কাটা হবে। আগে এটা কাটা হতো না। এছাড়া বছর বছর পেনশন বাড়বে না। অর্থাৎ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে মিলিয়ে পেনশনের জন্য টাকার পরিমাণ বাড়বে না।

তাছাড়া বর্তমান ব্যবস্থায় পেনশনার ব্যক্তি আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করে থাকেন। তবে এখনকার প্রত্যয় স্কিমে পেনশনার ব্যক্তির মৃত্যুর পর মনোনীত ব্যক্তি এখনকার মতো আজীবন পেনশন পাবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আপত্তির জায়গা হচ্ছে, বর্তমান স্কিমে অবসরের বয়স নিয়েও একটা ধোঁয়াশা আছে। এখানে এক বাক্যে অবসরের বয়স ৬০ বছর বলা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের অবসরের বয়স তো ৬৫ বছর।