এক বছরে আত্মহত্যা ৩১০ শিক্ষার্থীর, বেশি ছাত্রী: সমীক্ষা

প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৫

গেল এক বছরে সারা দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৩১০ জন শিক্ষার্থীর আত্মহননের চিত্র উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।

সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের এ সমীক্ষা বলছে, সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করেছেন মেয়ে শিক্ষার্থীরা, এ হার ৬১ শতাংশ।

আর শিক্ষার স্তর অনুযায়ী আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি ছিল মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে, ৪৬ দশমিক ১ শতাংশ।

২০২৩ সালে ৫১৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৩২। সে তুলনায় গেল বছর আত্মহননের ঘটনা কম ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে।

শনিবার ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের আত্মহননের এই চিত্র তুলে ধরেছেন সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য ফারজানা আক্তার লাবনী।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আত্মহত্যা সম্পর্কিত রিপোর্ট মিডিয়াতে কম এসেছে বলে আমাদের গবেষকরা মনে করছেন।”

ফারজানা লাবনী বলেন, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ ছেলে। তৃতীয় লিঙ্গ ও ট্রান্সজেন্ডার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গেল বছর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী, ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তার পরে রয়েছে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী, ২৪ শতাংশ।

আর আত্মহত্যা করা মোট শিক্ষার্থীর ৭ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ১ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

আত্মহত্যা বেশি স্কুল পর্যায়ে

২০২৪ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ছিল স্কুলগামীদের মধ্যে, এ হার ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। তাদের মধ্যে ছিল ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

আর শিক্ষার স্তর অনুযায়ী, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪৬ দশমিক ১ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ ও স্নাতক পর্যায়ের ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

এছাড়া ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, ডিপ্লোমা পর্যায়ের শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং সদ্য পড়ালেখা শেষ করা বেকার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

আত্মহত্যায় এগিয়ে ঢাকা

আঁচল ফাউন্ডেশন বলেছে, গেল বছর সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, ২৯ শতাংশ। তার পরে খুলনায় ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ, রাজশাহী ও বরিশালে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ করে, রংপুরে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ও সিলেট বিভাগে ২ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার করেছেন।

আত্মহত্যার কারণ

সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি বলেছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন অভিমান করে, এ হার ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রেমের সম্পর্কের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মাধ্যমিকে ৩৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, কলেজ পর্যায়ে ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

পড়ালেখার চাপে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে ছিল স্কুল পর্যায়ে ৫৯ দশমকি ০৯ শতাংশ, কলেজ পর্যায়ে ২৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ দশমকি ০৯ শতাংশ।

আর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন মানসিক অস্থিরতার কারণে।

আত্মহত্যার মাধ্যম

গত বছর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ছাদ থেকে ঝাঁপ, পানিতে ডুব দেওয়া, ট্রেনে কাটা পড়া, ছুরি দিয়ে আঘাত, ঘুমের ওষুধ খাওয়ার মত পদ্ধতি ব্যবহার করে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ আত্মহত্যা করেন।