আজ না হলে কবে? প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০২৫ ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয় ক্যান্সারকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’—এর লক্ষণগুলো এতটাই অস্পষ্ট যে অনেক ক্ষেত্রেই তা উপেক্ষিত থেকে যায়। বাংলাদেশে এই নীরবতা যেন আরও গাঢ়। The Every Woman Study : LMIC Edition শীর্ষক একটি সাম্প্রতিক বৈশ্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে বাংলাদেশি নারীদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার এক ভয়াবহ চিত্র। বিশ্বজুড়ে নারীদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অষ্টম প্রধান কারণ হলো এই রোগ। এর ৭০ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০৪৫ সালের মধ্যে ওভারিয়ান ক্যান্সারে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে ২,২৩১ জন নারী এই রোগে প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ এখনও এই ক্যান্সার যথাযথভাবে শনাক্ত হয় না; নেই নির্ধারিত বাজেট, নেই পর্যাপ্ত সচেতনতা। গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসার জন্য নারীরা ঢাকামুখী হন। অথচ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডায়াগনস্টিক সুবিধা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে গ্রামীণ নারীদের জন্য চিকিৎসা পাওয়া কঠিন, ব্যয়বহুল এবং প্রায় অসম্ভব। টার্গেটেড থেরাপি, জেনেটিক টেস্টিংসহ আধুনিক চিকিৎসা এখনো দেশের জন্য এক বিলাসিতা। রোগীরা অধিকাংশ সময় হাসপাতালে পৌঁছান তখন, যখন রোগটি অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে। এটি শুধুই উদাসীনতা নয়—বরং এর পেছনে রয়েছে সচেতনতার অভাব, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা শুরু হয় না, থেমে যায় বা ধীরগতির হয়ে পড়ে; কারণ নারীরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর নন কিংবা পারিবারিক সমর্থন হারান। করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে—চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটেছে, মানসিক চাপ বেড়েছে। তবুও আশার আলো আছে। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা এই রোগকে জয় করেছেন, তারাই হতে পারেন সচেতনতার প্রধান কণ্ঠস্বর। প্রশিক্ষিত স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সরাও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। পুরুষদেরও করতে হবে এই সচেতনতার অংশীদার—শুধু সিদ্ধান্তদাতা হিসেবে নয়, বরং সহযোগী হিসেবেও। বাংলাদেশ চাইলে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। যেমন: উজবেকিস্তান ও জাম্বিয়া সরকারের মতো যদি বাংলাদেশ সরকারও ওভারিয়ান ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয় বহন করে, তাহলে হাজারো নারীর জীবন বদলে যেতে পারে। এজন্য দরকার বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ, একটি কার্যকর জাতীয় ক্যান্সার রেজিস্ট্রি এবং গাইনোকলজিক অনকোলজি সেবার সম্প্রসারণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ওভারিয়ান ক্যান্সার শুধু শহরের সমস্যা নয়—এটি একটি জাতীয় সংকট। এর মোকাবিলায় প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা, কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ। বিশ্ব ওভারিয়ান ক্যান্সার দিবসে চাই প্রতীকী প্রচার নয়- চাই বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। চাই এমন নীতি ও পদক্ষেপ, যা প্রতিটি নারীর জীবনে সুস্থতার সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনে। আজ না হলে, কখন? লেখক: পরিচালক, ওয়ার্ল্ড ওভারিয়ান ক্যান্সার কোয়ালিশন SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: নারীদেরবাংলাদেশি