যানজট নিরসনে ৩০ জুনের মধ্যে ইটিসি চালুর নির্দেশ প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২৬ টোল দিয়ে যাতায়াত করতে হয়, রাজধানী ঢাকায় এমন উড়ালসড়ক রয়েছে দুটি। একটি যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার। অন্যটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। সরকারের পর্যবেক্ষণ বলছে, দুটি অবকাঠামোতেই টোল আদায়ে ধীরগতির প্রভাব সড়কে এসে পড়ছে, যা ঢাকার যানজট বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকার যানজট নিরসন বিষয়ক এক সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও সেতু বিভাগকে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব পদ্ধতিতে (পিপিপি) এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ ও পরিচালনা করছে ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামের একটি কোম্পানি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকালে ও বিকালে কর্মব্যস্ত সময়ে তেজগাঁও ও বিমানবন্দরে এক্সপ্রেসওয়েতে দীর্ঘ লাইন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইটিসি স্থাপন করতে এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানিকে দুই বছর আগে (২০২৪ সালে) একটি চিঠি দেয় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক এএইচএম সাখাওয়াত আখতারের সই করা এক চিঠিতে ইটিসি স্থাপনের তাগিদ দিয়ে ওই চিঠিতে বলা হয়, শুরু থেকেই ইটিসি স্থাপনের কথা থাকলেও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তা করছে না। কর্মব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ারে) তেজগাঁও ও বিমানবন্দর এলাকায় টোলবুথে দীর্ঘ লাইন হয়। এতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরূপ মনোভাব দেখা দেবে। ওই চিঠিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইটিসি স্থাপন করতে বলা হয়। যদিও দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইটিসি চালু করতে পারেনি এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা থেকে নির্দেশনা আসার পর নড়েচড়ে বসেছে তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ইটিসি পদ্ধতিতে টোল আদায় শুরু হয়েছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইটিসি প্রযুক্তির ফলে ইটিসি ডিভাইসধারী যানবাহনগুলোকে টোল প্লাজায় আর থামতে হবে না। গাড়িতে থাকা ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই টোলের টাকা কেটে নেয়া হবে। বর্তমানে প্রতিটি টোল প্লাজার একটি করে লেনে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। কুড়িলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কার্যালয় থেকে আড়াই হাজার টাকায় এই ডিভাইস সংগ্রহ করা যাবে। তবে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ অফার দেয়া হচ্ছে। এককালীন ৫ হাজার টাকা রিফিল করলে ডিভাইসটি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারেও ইটিসি চালুর কথা জানিয়েছেন উড়ালসড়কটি পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে সীমিত পরিসরে ইটিসি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শুধু ঢাকার দুই উড়ালসড়ক নয়, দেশের বৃহত্তম যোগাযোগ অবকাঠামো পদ্মা সেতুতেও ইটিসি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ইটিসি চালুর লক্ষ্যে সেতুর উভয় প্রান্তের জেলাগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘ইটিসি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো দ্রুততম সময়ে পারাপার হতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’ SHARES জাতীয় বিষয়: অবকাঠামোতেইঅসন্তোষইটিসিচালুরটোল আদায়েদ্রুত সময়ের মধ্যেধীরগতিরনির্দেশনির্মাণপরিচালনাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানযানজট নিরসনেস্থাপনের