বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে মারাত্মক সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে। দক্ষিণ ইরানে রাতভর মার্কিন বিমান হামলা এবং তার জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তেহরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে আরও বড় আকারে বিস্তৃত হওয়ার গভীর আশঙ্কায় এশিয়ার প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন কর্তৃক ইরানের ওপর একাধিক দফায় বিমান হামলা চালানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধস নামে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের ক্রমেই উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত করে তুলছে। এর ফলে বিগত কয়েক মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান নিয়ে যে কূটনৈতিক আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই নতুন যুদ্ধ ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে যে ইরানে আমেরিকার সর্বশেষ হামলার পর জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার নিক্কেই সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক এক ধাক্কায় প্রায় ২ শতাংশ পড়ে গেছে। এর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ২৯ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ‘ডব্লিউটিআই’ অপরিশোধিত তেলের দামও শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮৮ দশমিক ৯৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিগত সাত সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে আবারও শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সামরিক ও রাডার স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বিমান বাহিনীর নতুন হামলা এবং একই সময়ে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের জাতীয় মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার তথ্য সরকারিভাবে প্রকাশের পরই বিশ্ব তেলের বাজারে এই আকস্মিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। সর্বশেষ বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্যাক্সোর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা বৈশ্বিক এই বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার খবরের পরও তেলের দাম ৯০ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছে। এ থেকে খুব স্পষ্ট বোঝা যায় যে আন্তর্জাতিক বাজার এখনো মধ্যপ্রাচ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার চরম আশঙ্কাকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করতে পারছে না। তবে এই যুদ্ধে যদি আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো, প্রধান নৌপরিবহন পথ বা আমেরিকার সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়ন বা রেকর্ড মূল্যের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।’ অন্যদিকে বুধবার মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকেও চাতক পাখির মতো নজর রাখছেন বিশ্বজুড়ে বড় বড় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা। মে মাস পর্যন্ত বিগত ১২ মাসের মার্কিন সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রকৃত চিত্র এই সরকারি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই বিধ্বংসী যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন অর্থনীতির ওপর কতটা পড়েছে, সেটিও এই মূল্যস্ফীতির রিপোর্টে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের চালানো একটি বিশেষ জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই যুদ্ধকালীন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার সম্ভবত ৪ দশমিক ২ শতাংশের উচ্চ সীমায় গিয়ে পৌঁছেছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজ্বালানি তেলতেলের-দামবিশ্ব সংবাদমধ্যপ্রাচ্য