তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২৬ রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীর পানি বাড়ায় গত বছর করা বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটির অন্তত দশটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) রাত থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৫০ মিটারের বেশি অংশ ভেঙে ৬০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শঙ্কায় পড়েছেন। একই সঙ্গে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার হুমকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত বছর ওই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে হুমকির মুখে পড়েছিল সেতুটি। সে সময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে পরবর্তী সময়ে আর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে আবারও পানির স্রোতে বাঁধটি ভেঙে যাচ্ছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরত মদাতি এলাকার শাহনাজ বেগম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শহরে যাই। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তিস্তা সেতু এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদি উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি তীব্র হয়, তখন তো কোনো উপায় থাকবে না। কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে। অথচ এলজিইডি শুধু আশ্বাস দিয়েছে। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত বছর ব্লক দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে এলজিইডিকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তারা শোনেননি, ১৪ লাখ টাকা দিয়ে সামনে বাঁশের পাইলিং করেছিল। এবার সেই পাইলিংও শেষ, আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি ঠেকানো না গেলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। তবে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে সেতু রক্ষা বাঁধের ৫০ শতাংশ ধসে গেছে। গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এ ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। আবারও ভাঙন ধরায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। SHARES জাতীয় বিষয়: তিস্তা সেতুতিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙনভাঙনভয়াবহরংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছেরক্ষা বাঁধে