কুড়িগ্রামে কৃষকদের হাতে নতুন কার্ড, যে সুবিধা পাবেন তারা

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’। কৃষকদের সংগ্রহ করা সারের তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখতে এই কার্ড চালু করেছে কৃষি বিভাগ। জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে চিলমারী দিয়ে শুরু হয়েছে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ বলছে, কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক নির্বাচন করা সহজ হবে। একই সঙ্গে কোন কৃষক কখন কী পরিমাণ সার নিচ্ছেন তার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। তবে কার্ড নিতে গিয়ে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, চলতি আমন মৌসুমে জমিতে সার দেওয়ার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলারের কাছে ঘুরেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে চালু হলো ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’। এই কার্ড নিতে কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই ব্যয় হচ্ছে।

কার্ড নিতে আসা চিলমারীর কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, কার্ড তো পেয়েছি, সার তো পাচ্ছি না। সার যদি না দেয়, কার্ড দিয়ে কী হবে? ডিলারের কাছে গেলে বলে সার এখনো আসে নাই। এবার আবাদ করবো কীভাবে।

চর পাত্রখাতা এলাকার কৃষক বদিউজ্জামান বলেন, সারের জন্য এই প্রথম কার্ড নেওয়া লাগলো। সে কার্ড নিতেও ৩০ টাকা ব্যয় হয়েছে। কার্ড নিয়েও যদি সার পেতাম, তাও হতো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের নয় উপজেলায় কৃষক রয়েছেন পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার ৬২০ জন।

সূত্র জানায়, গত জুলাই, আগস্ট এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রাম জেলার জন্য ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই বরাদ্দ করা হয় চার হাজার ৬৪৪ টন ইউরিয়া।

চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় প্রায় ৩২ হাজার কৃষক রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। কার্ডে কৃষক কোন সার, কখন এবং কী পরিমাণ নিয়েছেন সেই তথ্য থাকবে।

কার্ডের জন্য বাড়তি খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে কার্ড নিলে কোনো খরচ নেই। তবে কেউ বাইরে থেকে কম্পিউটারে কার্ড প্রিন্ট করে আনলে সেই প্রিন্টের খরচ হতে পারে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিলমারী থেকে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের হাতে এই কার্ড দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে কার্ডের কার্যক্রম কার্যকর হবে। এতে কৃষকের তথ্য এবং কখন কী পরিমাণ সার নেওয়া হয়েছে তা লিপিবদ্ধ থাকবে।

রোকনুজ্জামান মানু/এসজেডএইচ/জেআইএম