সারাহর কিডনিগ্রহীতা শামীমাও মারা গেলেন প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৪ “এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পর ফলোআপে থাকা খুবই জরুরি। কিন্তু সে বাড়িতে গিয়ে আর ফলোআপে আসেনি,” বলেন এক চিকিৎসক। দেশে প্রথমবারের মত ‘ব্রেইন ডেড’ মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল যে দুজনের শরীরে, তাদের মধ্যে দ্বিতীয় জনও মারা গেলেন ১৫ মাস পর। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৪ বছর বয়সী শামীমা আক্তারের মৃত্যু হয় বলে তার ভাই শাহাজাদা হোসেন জানান। দেশের প্রথম ক্যাডাভেরিক অঙ্গদাতা সারাহ ইসলামের দান করা দুটি কিডনির একটি শামীমার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। বুধবার সকালে শামীমার মরদেহ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে। “কিডনি প্রতিস্থাপন করার পর থেকে আমার বোন ভালো ছিল না, নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এই সমস্যাগুলো কিডনি প্রতিস্থাপনের আগে ছিল না। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আইসিইউতে ছিল, গত রাতে চলে গেল।” বিএসএমএমইউ এর উদ্যোগেই ক্যাডাভেরিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শামীমার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ পরে ‘যথেষ্ট সহযোগিতা করেনি’ বলে শাহাজাদা হোসেনের অভিযোগ। তিনি বলেন, “হাসপাতালে এখন তো আমাদের কেউ আর চেনেই না ভালোভাবে। একমাত্র দুলাল স্যার একটু চেষ্টা করেছিল। একটা টেস্ট পর্যন্ত ফ্রি নাই, আসার সময় লাশ আটকে রাখছিল আইসিইউ। বিল দিয়ে বের হতে হবে। আমাদের যা টাকা ছিল তা শেষ হয়ে গেছিল। আমাদের সামর্থ্য ছিল না, কর্তৃপক্ষ কি পারত না আমাদের ফ্রি করে দিতে?” শামীমার কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। গত ৬ মাস শামীমা কোনো চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানের বাইরে ছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিন সপ্তাহ আগে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষানিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে সংক্রমণ এবং হেপাইটাইসিস সি ধরা পড়ে। “এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পর ফলোআপে থাকা খুবই জরুরি। কিন্তু সে বাড়িতে গিয়ে আর ফলোআপে আসেনি। আসার পর দেখি ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেছে, একেবারে শুকিয়ে গেছে। আমাদের এখানে ভর্তি করার পর তার লাংয়ে ইনফেকশন ধরা পড়ে, পাশাপাশি সি ভাইরাসেও আক্রান্ত হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চার দিন আগে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল।” SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: কিডনিগ্রহীতাসারাহ