ট্রাম্পের আল্টিমেটামের শেষ মুহূর্তে হরমুজ নিয়ে জাতিসংঘে ভোট আজ প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাহরাইনের তোলা একটি প্রস্তাবের ওপর আজ মঙ্গলবার ভোটাভুটি হতে পারে। এই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। হরমুজ খুলে দিতে ইরানকে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের আল্টিমেটাম বা সময়সীমা শেষ হবে মঙ্গলবার রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা)। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেলে প্রস্তাবের ওপর ভোটগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী, তাঁর দেওয়া সময়সীমার মধ্যে হরমুজ নিয়ে চুক্তি না হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেবে। বাহরাইন প্রস্তাব উত্থাপন করলেও তাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরব দেশগুলোর সমর্থন আছে। শুরুতে এই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত বৃহস্পতিবার প্রস্তাবের একটি খসড়া চূড়ান্তের দিন বলপ্রয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। এরপর গত কয়েকদিনে কঠোর শর্তগুলো শিথিল করা হয়েছে। গত সপ্তাহের খসড়ায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ইচ্ছুক যেকোনো রাষ্ট্রকে জাতিসংঘের মাধ্যমে বলপ্রয়োগের অধিকার দেওয়ার কথা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সোমবার প্রস্তাবটির একটি খসড়া দেখেছে এএফপি। সেখানে বলপ্রয়োগ ও আত্মরক্ষার কথাগুলো আর নেই। বর্তমানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ শব্দটি যুক্ত করায় প্রস্তাবের বিষয়ে ফ্রান্সের বিরোধীতা দূর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া এবং চীন এখনো এই প্রস্তাবটিতে ভেটো দিতে পারে। প্রস্তাবের সবশেষ খসড়ায় সরাসরি বলপ্রয়োগের অনুমতি দেওয়ার পরিবর্তে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টায় সমন্বয় করতে দৃঢ়ভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। যাতে পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার মাধ্যমে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবদান রাখা যায়। খসড়ায় ইরানকে পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সব ধরনের হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, তেহরান যেন বেসামরিক পানি শোধনাগার, তেল এবং গ্যাস অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করে। প্রস্তাবটি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, আক্রমণকারী এবং তাদের সমর্থকদের যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ (নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া উদ্যোগ) পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বলপ্রয়োগের অনুমতি দেওয়ার ঘটনা বিরল। ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় একটি ভোটের মাধ্যমে ইরাকে হস্তক্ষেপের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, ২০১১ সালে লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ করার জন্য ন্যাটো সবুজ সংকেত পেয়েছিল। ওই সময় পরিষদের ভোটদানে বিরত ছিল রাশিয়া। পরে মস্কো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিল, এই অনুমতির কারণেই লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: উন্মুক্তজাতিসংঘেরভোটমার্কিনযুক্তরাষ্ট্র