দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবির তৎপরতা জোরদার

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার প্রতিরোধে তৎপরতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি আসন্ন বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) ও পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজিবির যশোর রিজিয়ন সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার স্থলসীমান্ত এবং সুন্দরবনের জলসীমান্ত মিলিয়ে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশাল সীমান্তে ২টি সেক্টর ও ৭টি ব্যাটালিয়নের অধীনে ১১৬টি বিওপি থেকে প্রতিদিন দিবারাত্রি ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার প্রতিরোধে বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরে জোরদার নজরদারি ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পাচার রুট চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩২৫টি টহল পরিচালনা করা হয়েছে এবং ৮৯৯টি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮৬৮টি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বয়ে ৩১টি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধ তেল জব্দসহ একজনকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৬টি যৌথ নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ ও চামড়া পাচার রোধে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চোরাচালানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।

বিজিবি জানায়, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে যশোর রিজিয়ন চোরাচালানবিরোধী যৌথ নজরদারি৮৮ জন আসামিসহ প্রায় ৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করেছে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ দশমিক ২৮৯১৫ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫ দশমিক ৭৬ গ্রাম হীরা, ১০ দশমিক ৫ কেজি রৌপ্য, ৪২টি অস্ত্র ও ১৫২ রাউন্ড গুলি।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে ৪২০ জন আসামিসহ প্রায় ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য আটক করা হয়। ওই সময় ৫৮ কেজি স্বর্ণ, ৫৩ কেজি রৌপ্য, ২৭টি অস্ত্র ও ১৫২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে চলতি বছরের তিন মাসে ২ হাজার ৩২০ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২২ কেজি গাঁজা, ২৬ হাজার ২৭১টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪ হাজার ১০০ বোতলের বেশি ফেন্সিডিলসহ প্রায় ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বিজিবি জানায়, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’ বাস্তবায়নে বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিজিবি।