শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম ধাপের আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬ উত্তেজনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। সোমবার সমাপ্ত হওয়া এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনা শুরু হয়েছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। একদিকে তেহরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি রূপরেখায় সম্মত হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে চলতি সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, লেবাননে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন, যা সোমবার ভোররাতে শেষ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেন, তেল ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করার প্রতিশ্রুতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে তেহরান। তবে আলোচনা আপাতত সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আলোচনা শুরুর আগে রোববার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে ইরানের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ওই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং সেখানে নিজস্ব কর আদায় শুরু করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি সূত্রের বরাতে জানায়, ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল। সূত্রটির দাবি, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানি তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সমঝোতা স্মারকের অন্যান্য শর্ত বাস্তবায়নের দাবি জানায় তেহরান। অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নেওয়া এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, ইরানি প্রতিনিধিরা কখনোই আলোচনা ত্যাগ করেনি। গভীর রাত পর্যন্ত সংলাপ চলেছে। হরমুজ প্রণালি, লেবাননের পরিস্থিতি, পরমাণু ইস্যু এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সোমবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য কারিগরি কমিটির সদস্যরা সেখানে অবস্থান করবেন। চুক্তিতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: আলোচনাইরানগুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিযুক্তরাষ্ট্রশেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম ধাপের আলোচনাসুইজারল্যান্ড