পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, পাসপোর্ট কোনো দেশের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; এটি মূলত আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত একটি সরকারি নথি।

সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্ট, আধার কার্ড ও ভোটার আইডিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় মন্ত্রণালয় এ ব্যাখ্যা দিয়েছে।

এক ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা জানান, পাসপোর্ট ভারতীয় নাগরিকদের দেওয়া হলেও এর প্রধান উদ্দেশ্য বিদেশে ভ্রমণ ও পরিচয় নিশ্চিত করা। নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া ও নথি রয়েছে। একই সঙ্গে তারা দেশের পাসপোর্ট ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের তথ্যও তুলে ধরেন।

সরকারের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের ফলে এখন অনেক ক্ষেত্রে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই পাসপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রগুলোতে আবেদনকারীদের গড়ে ৪৫ মিনিটেরও কম সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে চিপ-সংবলিত ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। গত বছরের মে মাস থেকে নতুন সব ভারতীয় পাসপোর্টে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মান অনুযায়ী নিরাপদ ইলেকট্রনিক চিপ সংযোজন করা হয়েছে। এতে বায়োমেট্রিক তথ্য ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা জালিয়াতি কমাতে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

ভারতে গত এক দশকে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা ছয় গুণ বেড়ে ৫৪৫টিতে পৌঁছেছে। চলতি বছরে আরও ২০টি কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিটি লোকসভা আসনে অন্তত একটি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা।

কোন নথি নাগরিকত্বের প্রমাণ?

ভারতে নাগরিকত্বের একক কোনো প্রমাণপত্র নেই। নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী। জন্মসূত্রে নাগরিকদের ক্ষেত্রে জন্মসনদ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে বাবা-মায়ের নথি, ভোটার তালিকা, শিক্ষাসনদ বা বাসস্থানের প্রমাণও বিবেচিত হয়। আর নিবন্ধন বা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্ব সনদই প্রধান প্রমাণ

বর্তমানে ভারতের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের কাছে পাসপোর্ট রয়েছে। তাই শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও বেশি মানুষের কাছে পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি ২৫টি দেশের সঙ্গে ২৭টি আন্তর্জাতিক গতিশীলতা চুক্তি এবং বহু দেশের ভিসা সুবিধা ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করছে। কর্মকর্তাদের মতে,নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।