আয়ের রেকর্ডে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস

প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৬

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর ও রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে। যদিও কাস্টমস রাজস্ব আদায়ে আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তবুও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরও আয়ের ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় করেছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৬ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির হিসাবে তা দাঁড়ায় ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় করেছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ আয় ছিল প্রায় ৭২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে কাস্টমসের প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সমাপ্ত অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়াতে সক্ষম হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। দেশের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ২২ শতাংশই আসে চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বর্তমানে ২৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রোবাংলার কাছেই বকেয়া ২১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, আয়ের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বন্দরের সব খাতেই যুগান্তকারী অর্জন হয়েছে। তিনি বলেন, এ অর্জনে বন্দরের সব স্টেকহোল্ডার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত সহযোগিতা রয়েছে। তবে বন্দরের জন্য বে-টার্মিনাল নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বন্দরের সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করেই জাহাজ চলাচল করতে হয়। বে-টার্মিনাল না থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারের লোকসান হচ্ছে।