অসভ্য মানুষের ব্যাপারে মুমিনের করণীয় প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ইসলাম মানুষকে ভদ্র ও সভ্য হওয়ার এবং সর্বপ্রকার হীন ও অসভ্যতা ত্যাগের শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি ইসলাম মুমিনদের অসভ্য মানুষ থেকে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কেননা মন্দ স্বভাব, মন্দ লোক দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জায়েদ ইবনে আসলাম (রা.) বলতেন, ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের উত্তম গুণাবলির অধিকারী হওয়া ও জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে মন্দ স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য এবং জাহান্নামে প্রবেশ থেকে নিষেধ করেছেন।’ (জাওয়াহিরুল ইলম : ৪/৫২২) সভ্য ও অসভ্যের পরিচয় যারা সংকীর্ণ মনের অধিকারী, যারা অশালীন ও হীন কথা-কাজে লিপ্ত থাকে তারাই অসভ্য। আর যারা মানসিক সংকীর্ণতা, অশ্লীলতা ও মন্দ কথা-কাজ থেকে বিরত থাকে তারাই ভদ্র ও সভ্য। (মিসবাহুল মুনির : ২/৫৬০) অসভ্যদের কেন ভয় করতে হবে? পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াত ও হাদিসে মুমিনদের হীন কথা, কাজ এবং মন্দ স্বভাবের মানুষের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যার কয়েকটি তুলে ধরা হলো— ১. আল্লাহর হুঁশিয়ারি : আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে অসৎ ও হীন স্বভাবের মানুষদের ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর অনুসরণ কোরো না তার—যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, পেছনে নিন্দাকারী, যে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়, যে কল্যাণের কাজে বাধা দেয়, যে সীমা লঙ্ঘনকারী, পাপিষ্ঠ, রূঢ় স্বভাব এবং তদুপরি কুখ্যাত।’ (সুরা : কালাম, আয়াত : ১০-১৩) ২. তারা কল্যাণশূন্য : যারা হীন স্বভাব-চরিত্রের অধিকারী তাদের দ্বারা মানুষের কোনো কল্যাণ পৌঁছে না। এমনকি তারা অসহায় মানুষকেও সাহায্য করে না। পবিত্র কোরআনের সুরা কাহফে বর্ণিত আছে, মুসা (আ.) ও খিজির (রা.) ভ্রমণকালে নিরুপায় হয়ে এক গ্রামের অধিবাসীদের কাছে আতিথেয়তা কামনা করেছিলেন। কিন্তু তারা অস্বীকার করেছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের ব্যাপারে বলেন, ‘অতঃপর দুজন চললেন এবং মন্দ লোকদের একটি লোকালয়ে গিয়ে উঠলেন। তারা গ্রামের বহু জায়গায় ঘুরে তাদের কাছে খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬০৫৯; সুরা : কাহফ, আয়াত : ৭৭)৩. তারা প্রতারক : মন্দ লোকেরা নির্লজ্জ ও প্রতারক হয়। সুতরাং তারা অন্যের ক্ষতি করতে দ্বিধা বোধ করে না এবং যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নেয়। নবী করিম (সা.) এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, ‘মুমিন সরল ও ভদ্র প্রকৃতির হয় আর মন্দ লোকেরা প্রতারক ও নির্লজ্জ হয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৯০) ৪. দ্বিনের ব্যাপারেও তারা কৃপণ : হীন প্রকৃতির মানুষ শুধু অন্য মানুষের ব্যাপারে সংকীর্ণমনা হয় না, বরং তারা আল্লাহ ও তাঁর দ্বিনের জন্যও ব্যয় করতে কার্পণ্য করে। আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মানত করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, এর দ্বারা হীন মানুষের (কৃপণের) কিছু সম্পদ হাতছাড়া হয় মাত্র। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১২২) ৫. তাদের নেতৃত্ব ধ্বংসাত্মক : মন্দ প্রকৃতির মানুষ শুধু ব্যক্তিবিশেষের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং তারা পুরো মানবসমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবী তত দিন পর্যন্ত ধ্বংস হবে না, যত দিন না তা মন্দ লোকের মন্দ ছেলের কবজায় যাবে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৮৬৯৭) হাদিসবিশারদরা বলেন, মন্দ রক্ত ও পরিবারের উত্তরাধিকারীরা যখন পৃথিবীর সম্পদ, নেতৃত্ব ও খ্যাতির অধিকারী হবে, তখন তা ধ্বংস হয়ে যাবে। কেননা তখন সবকিছুতে ভালোর পরিবর্তে মন্দই প্রবল হবে। (আত-তানভির : ১১/৯৬) মুমিনের করণীয় আল্লামা হামদানি (রহ.) মন্দ লোকের ব্যাপারে মুমিনের করণীয় তুলে ধরে বলেন, ‘মন্দ ও হীন লোকের ভালোবাসা কখনো নিখাঁদ হয় না, যদিও সে অনুকূল ও বন্ধু হয়। ভালো লোকেরা কখনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না, যদিও সে প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী হয়। সুতরাং তুমি ভদ্র লোকের সঙ্গ দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ করো এবং মন্দ লোকদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও। বিদ্যুতের প্রতিটি চমক যেন তোমাকে প্রতারিত না করে এবং প্রতিটি বজ্রপাত যেন তোমাকে চিন্তিত না করে। শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না, যদিও সে তোমার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে। বন্ধুর প্রতি নিরাশ হয়ো না, যদিও সে তোমার প্রতি ভ্রুকুটি করে।’ (আল মানসুরুল বাহায়ি, পৃষ্ঠা-৩১৬) আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন। Download PhotoCard SHARES ইসলাম বিষয়: অসভ্য মানুষের ব্যাপারে মুমিনের করণীয়
ইসলাম মানুষকে ভদ্র ও সভ্য হওয়ার এবং সর্বপ্রকার হীন ও অসভ্যতা ত্যাগের শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি ইসলাম মুমিনদের অসভ্য মানুষ থেকে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
কেননা মন্দ স্বভাব, মন্দ লোক দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জায়েদ ইবনে আসলাম (রা.) বলতেন, ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের উত্তম গুণাবলির অধিকারী হওয়া ও জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে মন্দ স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য এবং জাহান্নামে প্রবেশ থেকে নিষেধ করেছেন।’ (জাওয়াহিরুল ইলম : ৪/৫২২) সভ্য ও অসভ্যের পরিচয় যারা সংকীর্ণ মনের অধিকারী, যারা অশালীন ও হীন কথা-কাজে লিপ্ত থাকে তারাই অসভ্য। আর যারা মানসিক সংকীর্ণতা, অশ্লীলতা ও মন্দ কথা-কাজ থেকে বিরত থাকে তারাই ভদ্র ও সভ্য।
(মিসবাহুল মুনির : ২/৫৬০) অসভ্যদের কেন ভয় করতে হবে? পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াত ও হাদিসে মুমিনদের হীন কথা, কাজ এবং মন্দ স্বভাবের মানুষের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যার কয়েকটি তুলে ধরা হলো— ১. আল্লাহর হুঁশিয়ারি : আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে অসৎ ও হীন স্বভাবের মানুষদের ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর অনুসরণ কোরো না তার—যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, পেছনে নিন্দাকারী, যে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়, যে কল্যাণের কাজে বাধা দেয়, যে সীমা লঙ্ঘনকারী, পাপিষ্ঠ, রূঢ় স্বভাব এবং তদুপরি কুখ্যাত।’ (সুরা : কালাম, আয়াত : ১০-১৩) ২. তারা কল্যাণশূন্য : যারা হীন স্বভাব-চরিত্রের অধিকারী তাদের দ্বারা মানুষের কোনো কল্যাণ পৌঁছে না।
এমনকি তারা অসহায় মানুষকেও সাহায্য করে না। পবিত্র কোরআনের সুরা কাহফে বর্ণিত আছে, মুসা (আ.) ও খিজির (রা.) ভ্রমণকালে নিরুপায় হয়ে এক গ্রামের অধিবাসীদের কাছে আতিথেয়তা কামনা করেছিলেন। কিন্তু তারা অস্বীকার করেছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের ব্যাপারে বলেন, ‘অতঃপর দুজন চললেন এবং মন্দ লোকদের একটি লোকালয়ে গিয়ে উঠলেন। তারা গ্রামের বহু জায়গায় ঘুরে তাদের কাছে খাবার চাইলেন।
কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬০৫৯; সুরা : কাহফ, আয়াত : ৭৭)৩. তারা প্রতারক : মন্দ লোকেরা নির্লজ্জ ও প্রতারক হয়। সুতরাং তারা অন্যের ক্ষতি করতে দ্বিধা বোধ করে না এবং যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নেয়। নবী করিম (সা.) এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, ‘মুমিন সরল ও ভদ্র প্রকৃতির হয় আর মন্দ লোকেরা প্রতারক ও নির্লজ্জ হয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৯০) ৪. দ্বিনের ব্যাপারেও তারা কৃপণ : হীন প্রকৃতির মানুষ শুধু অন্য মানুষের ব্যাপারে সংকীর্ণমনা হয় না, বরং তারা আল্লাহ ও তাঁর দ্বিনের জন্যও ব্যয় করতে কার্পণ্য করে। আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মানত করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, এর দ্বারা হীন মানুষের (কৃপণের) কিছু সম্পদ হাতছাড়া হয় মাত্র। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১২২) ৫. তাদের নেতৃত্ব ধ্বংসাত্মক : মন্দ প্রকৃতির মানুষ শুধু ব্যক্তিবিশেষের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং তারা পুরো মানবসমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবী তত দিন পর্যন্ত ধ্বংস হবে না, যত দিন না তা মন্দ লোকের মন্দ ছেলের কবজায় যাবে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৮৬৯৭) হাদিসবিশারদরা বলেন, মন্দ রক্ত ও পরিবারের উত্তরাধিকারীরা যখন পৃথিবীর সম্পদ, নেতৃত্ব ও খ্যাতির অধিকারী হবে, তখন তা ধ্বংস হয়ে যাবে। কেননা তখন সবকিছুতে ভালোর পরিবর্তে মন্দই প্রবল হবে। (আত-তানভির : ১১/৯৬) মুমিনের করণীয় আল্লামা হামদানি (রহ.) মন্দ লোকের ব্যাপারে মুমিনের করণীয় তুলে ধরে বলেন, ‘মন্দ ও হীন লোকের ভালোবাসা কখনো নিখাঁদ হয় না, যদিও সে অনুকূল ও বন্ধু হয়। ভালো লোকেরা কখনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না, যদিও সে প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী হয়। সুতরাং তুমি ভদ্র লোকের সঙ্গ দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ করো এবং মন্দ লোকদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও। বিদ্যুতের প্রতিটি চমক যেন তোমাকে প্রতারিত না করে এবং প্রতিটি বজ্রপাত যেন তোমাকে চিন্তিত না করে। শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না, যদিও সে তোমার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে। বন্ধুর প্রতি নিরাশ হয়ো না, যদিও সে তোমার প্রতি ভ্রুকুটি করে।’ (আল মানসুরুল বাহায়ি, পৃষ্ঠা-৩১৬) আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।