ব্যর্থ হলো আরো এক চেষ্টা, মিলল না নিখোঁজ পাইলট অ্যামেলিয়ার হদিস প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬ প্রায় ৯০ বছর আগে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে বিমান চালনার সময় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান কিংবদন্তি বিমানচালক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট। সিএনএন জানিয়েছে, সম্প্রতি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে চালানো হয়েছিল নতুন এক অনুসন্ধান অভিযান। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, সেখান থেকেও ইয়ারহার্টের বিখ্যাত ‘লকহিড ১০ই ইলেক্ট্রা’ বিমানের ধ্বংসাবশেষের কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনভিত্তিক ‘আর্কিওলজিক্যাল লিগ্যাসি ইনস্টিটিউট’ এবং ইনডিয়ানার ‘পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের ১৭ সদস্যের একটি যৌথ দল গত ১২ অক্টোবর নিকুমারোরো নামক নির্জন দ্বীপটিতে পৌঁছায়। এর আগে ২০২০ সালে স্যাটেলাইট ছবিতে নিকুমারোরো দ্বীপের একটি লেগুনে বিমান-আকৃতির একটি ঝাপসা বস্তু দেখা যায়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘তারাইয়া অবজেক্ট’। গবেষকদের ধারণা ছিল, এটিই হয়তো ইয়ারহার্টের নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ। তবে উচ্চপ্রযুক্তির ম্যাগনেটোমিটার ব্যবহার করে পুরো এলাকা অনুসন্ধানের পর তারা নিশ্চিত হন যে সেটি কোনো বিমানের অবশেষ নয়—বরং উপকূলে জমা হওয়া বড় বড় গাছের গুঁড়ির সমষ্টি ছিল। ১৯৩৭ সালের ২ জুলাই প্রথম নারী হিসেবে বিমানে বিশ্ব প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক উদ্দেশ্যে রওনা হন অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট এবং তার সহ-চালক ফ্রেড নুনান। নিউ গিনির লায়ে থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্রতম ভূখণ্ড হাওল্যান্ড দ্বীপের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর তারা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার যাত্রাপথে তাদের বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে যায় এবং গন্তব্যের কাছাকাছি মহাসাগরেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে অন্য এক দলের গবেষকদের ধারণা ছিল, বিমানটি হাওল্যান্ড দ্বীপের প্রায় ৪০০ মাইল দক্ষিণে নিকুমারোরো দ্বীপে জরুরি অবতরণ করেছিল এবং সেখানেই আটকে পড়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তাদের মৃত্যু হয়। নিকুমারোরো দ্বীপে এ পর্যন্ত ১৫ বার অনুসন্ধান চালানো হলেও প্রতিবারই গবেষকদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এমনকি ২০১৯ সালে বিখ্যাত সমুদ্রবিজ্ঞানী বব ব্যালার্ড এবং ২০২৪ সালে অনুসন্ধানকারী সংস্থা ‘ডিপ সি ভিশন’-এর সোনার ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। প্রশান্ত মহাসাগরের দুর্গম এই অ্যাটলটিতে সাম্প্রতিক মিশনটি ব্যর্থ হলেও গবেষকদের দাবি, এই তত্ত্ব যাচাই করাই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল। অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের রহস্যময় অন্তর্ধানের সত্য উন্মোচনে ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রে আরো নতুন প্রযুক্তি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা। Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ব্যর্থ হলো আরো এক চেষ্টামিলল না নিখোঁজ পাইলট অ্যামেলিয়ার হদিস
প্রায় ৯০ বছর আগে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে বিমান চালনার সময় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান কিংবদন্তি বিমানচালক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট। সিএনএন জানিয়েছে, সম্প্রতি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে চালানো হয়েছিল নতুন এক অনুসন্ধান অভিযান।
তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, সেখান থেকেও ইয়ারহার্টের বিখ্যাত ‘লকহিড ১০ই ইলেক্ট্রা’ বিমানের ধ্বংসাবশেষের কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনভিত্তিক ‘আর্কিওলজিক্যাল লিগ্যাসি ইনস্টিটিউট’ এবং ইনডিয়ানার ‘পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের ১৭ সদস্যের একটি যৌথ দল গত ১২ অক্টোবর নিকুমারোরো নামক নির্জন দ্বীপটিতে পৌঁছায়। এর আগে ২০২০ সালে স্যাটেলাইট ছবিতে নিকুমারোরো দ্বীপের একটি লেগুনে বিমান-আকৃতির একটি ঝাপসা বস্তু দেখা যায়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘তারাইয়া অবজেক্ট’। গবেষকদের ধারণা ছিল, এটিই হয়তো ইয়ারহার্টের নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ।
তবে উচ্চপ্রযুক্তির ম্যাগনেটোমিটার ব্যবহার করে পুরো এলাকা অনুসন্ধানের পর তারা নিশ্চিত হন যে সেটি কোনো বিমানের অবশেষ নয়—বরং উপকূলে জমা হওয়া বড় বড় গাছের গুঁড়ির সমষ্টি ছিল। ১৯৩৭ সালের ২ জুলাই প্রথম নারী হিসেবে বিমানে বিশ্ব প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক উদ্দেশ্যে রওনা হন অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট এবং তার সহ-চালক ফ্রেড নুনান। নিউ গিনির লায়ে থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্রতম ভূখণ্ড হাওল্যান্ড দ্বীপের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর তারা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার যাত্রাপথে তাদের বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে যায় এবং গন্তব্যের কাছাকাছি মহাসাগরেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
তবে অন্য এক দলের গবেষকদের ধারণা ছিল, বিমানটি হাওল্যান্ড দ্বীপের প্রায় ৪০০ মাইল দক্ষিণে নিকুমারোরো দ্বীপে জরুরি অবতরণ করেছিল এবং সেখানেই আটকে পড়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তাদের মৃত্যু হয়। নিকুমারোরো দ্বীপে এ পর্যন্ত ১৫ বার অনুসন্ধান চালানো হলেও প্রতিবারই গবেষকদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এমনকি ২০১৯ সালে বিখ্যাত সমুদ্রবিজ্ঞানী বব ব্যালার্ড এবং ২০২৪ সালে অনুসন্ধানকারী সংস্থা ‘ডিপ সি ভিশন’-এর সোনার ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। প্রশান্ত মহাসাগরের দুর্গম এই অ্যাটলটিতে সাম্প্রতিক মিশনটি ব্যর্থ হলেও গবেষকদের দাবি, এই তত্ত্ব যাচাই করাই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল। অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের রহস্যময় অন্তর্ধানের সত্য উন্মোচনে ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রে আরো নতুন প্রযুক্তি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা।