ঢাকায় ফিরছে লোডশেডিং, প্রতিদিন বিদ্যুৎ থাকবে না ১ ঘণ্টা

প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২৪

সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর উদ্যোগে ২০২০ সালে যুক্ত হয় দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর প্রত্যন্ত গ্রাম কমলাপুর। কেরোসিনের ল্যাম্প জালিয়ে জীবনযাপন করায় অভ্যস্ত গ্রামবাসীর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বদলে দিয়েছিলো বিদ্যুৎ। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিদিন ঘণ্টার পর লোডশেডিং সেই পরিস্থিতির ছন্দ পতন ঘটিয়েছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংয়ের এ পরিস্থিতি শুধু কমলাপুর গ্রামেরই নয়, সারাদেশেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

তবে গ্রামের মানুষকে লোডশেডিং থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে এবার রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। সেই পরিকল্পনায় প্রতিদিন ১ ঘণ্টা করে লোডশেডের চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৫টি। এই সংখ্যক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার ২৭৭ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়যোগ্য জ্বালানিসহ)। সম্প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। সারাদেশে গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৬৮ লাখ। উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।

শীত মৌসুমে চাহিদা আর সরবরাহের পার্থক্য কম থাকলেও গ্রীষ্ম মৌসুমে তা অনেকগুণ বেড়ে যায়। সে গ্যাপ পূরণে প্রতিবছরই লোডশেডিং দিতে হয়। আর তার পরিমান গ্রামে বেশি। এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে ঠেকতে পারে। গত বছর এ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এ বছর গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে গড়ে সাড়ে ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে চাহিদার বিপরীতে।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দিনে গ্যাসের চাহিদা ২৩২ কোটি ঘনফুট, কিন্তু সেখানেও সংকট। যে কারণে কখনোই প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা যায় না। চাহিদা ও সরবরাহে গ্যাপের কারণে যে পরিমান বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকে তা বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দিয়ে পূরণ করা হয়। গত সোমবার (৬ মে) সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ১৪০০০ মেগাওয়াট, তার বিপরীতে সাড়ে তেরো হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করা হয়েছে। যে কারণে সারাদেশে লোডশেডিং ছিলো না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমে সারাদেশেই লোডশেডিং করতে হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত দুইদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমেছে। তবে আবারও তাপমাত্রা বেড়ে গেলে এবার ঢাকাতেও লোডশেডিং করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে হয়তো ১ ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হতে পারে।’

গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে এই দৈন্যদশার বিষয়টি সংসদ অধিবেশনে তুলে ধরেছেন কয়েক সংসদ সদস্য। তারা বলছেন, দেশে যেভাবে লোডশেডিং বাড়ছে তাতে যেকোনো সময় জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে।
জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ‘এখন কমবেশি ১৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। এটা আরও বাড়বে। মানুষ বিল পরিশোধ করেও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় প্রশ্ন করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কাছে।

লোডশেডিংয়ের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন জাপার আরেক সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ লোডশেডিং নিয়ে আলোচনায় সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন।

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় সোমবারের নিয়মিত মন্ত্রিসভায়ও। সারাদেশে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ নসরুল হামিদ বলেন, ‘দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে লোডশেডিং হচ্ছে এটা সত্যি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক স্থানে লোডশেড করতে হচ্ছে। এটা গত এক মাস ধরে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এ সমস্যা তৈরি হয়েছে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায়। পাশাপাশি অর্থ সংকটও ছিলো। সেসব সংকট কাটতে শুরু করেছে।’