এইচএসসি পরীক্ষা পেছালেও স্বস্তিতে নেই সিলেটের পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৪

বন্যাকবলিত সিলেট বিভাগের চার জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা পেছালেও স্বস্তিতে নেই পরীক্ষার্থীরা। বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। পরীক্ষা কেন্দ্রে এখনও পানি থাকায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ও ভাল ফল করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অভিভাবকেরা।

সারা দেশে গত ৩০ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও, সিলেট বিভাগের চার জেলার ৮৩ হাজার শিক্ষার্থী বসতে পারেনি পরীক্ষায়। ঘরে-বাইরে, পরীক্ষা কেন্দ্রে পানি থাকায় প্রথম চারটি পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষাবোর্ড।

এখনও অনেকের ঘরবাড়ি ও পরীক্ষা কেন্দ্রে রয়েছে পানি। এ অবস্থার মধ্যেই ৯ জুলাই পরীক্ষায় বসবে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছে, তাদের কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঘরে পড়ালেখার জন্য বই-খাতা রাখার কোনো জায়গা নেই, ঘরের ভেতর বন্যার পানি।

দুই দফা বন্যায় ঠিকমত প্রস্তুতি নিতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। পড়াশুনা ব্যাহত হওয়ায় ফলাফল নিয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠেছে অভিভাবকেরা।

অভিভাবকেরা বলছেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে যদি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে পরীক্ষার্থীরা বিপদে পড়ে যাবে। তারা বই-খাতা কোথায় রেখে পড়বে, নিজেরা কীভাবে নিজেদের এই পরিস্থিতির মধ্যে মানসিকভাবে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করবে এরকম নানা প্রশ্ন থেকেই যায়।

সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, পানি কমতে থাকায় ৯ জুলাই থেকে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর স্থগিত চারটি পরীক্ষা হবে ১৩ আগস্ট থেকে।

এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি ছয়টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অব্যাহত বর্ষণে সুনামগঞ্জে আবারও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৫৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সিলেটে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গত কয়েকদিনের অব্যাহত বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে আবারও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জেলার চার উপজেলা তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ সদর, মধ্যনগরে অন্তত দুই শতাধিক গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও যাদুকাটা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী উপচে পানি ঢুকছে নিম্নাঞ্চলসহ তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়। সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে তিন উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

দশ দিন আগে জেলার প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ বন্যার কবলে পড়েছিল। তাদের জন্য ৭০২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। এরমধ্যে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিলেন প্রায় ২৬ হাজার বন্যা কবলিত লোকজন। বাসা-বাড়ি, জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার সঙ্গে রাস্তাঘাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এখন আবার জেলার চার উপজেলার মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছেন। আগের বন্যার পানিতে নদ নদী ও হাওরে পানিভরা থাকায় এখন পানি বাড়লে দুর্ভোগ বাড়বে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে মানুষজনের।

এদিকে ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে জেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক। তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর, সাহেববাড়ী ঘাট, তেঘরিয়া, বড়পাড়া নদীর পাড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট। এসব এলাকার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নিম্নাঞ্চলের অন্তত তিন লাখ মানুষকে।

১৫ দিনের ব্যবধানে দুই দফা বন্যায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী বলছেন, প্রথম দফা বন্যার ক্ষত কাটিয়ে উঠার আগেই আবারও বন্যা। দুশ্চিন্তায় কোনো কিনারা পাচ্ছেন না তারা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানালেন, আরও পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। বাড়তে পারে নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ।

এবার সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চার জেলার ৩০৯টি প্রতিষ্ঠানের ৮২ হাজার ৭৯৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।