কুমিল্লায় বেড়েছে ঠোঙার চাহিদা

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০২৪

দেশের বাজারে পলিথিন এবং পলিপ্রোপাইলিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই কুমিল্লার বাজারে বেড়েছে প্রশাসনের নজরদারি। এতে সংকুচিত হতে শুরু করেছে পলিথিনের বাজার। তবে ভাগ্য খুলেছে কাগজের ঠোঙার। বাজার ধরতে ব্যস্ততা বেড়েছে ঠোঙা তৈরির উদ্যোক্তা ও কারিগরদের। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ক্ষুদ্রঋণ পেলে পরিবেশবান্ধব এই হস্তশিল্পটি এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর। এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিন কুমিল্লা নগরীর মফিজাবাদ কলোনিতে দেখা যায়, প্রতিটি ঘরে ঘরেই চলছে ঠোঙা তৈরির আয়োজন। কেউ পুরোনো কাগজের জটলা খুলছেন, কেউ তৈরি করছেন ময়দা আর তুত্তা দিয়ে ঠোঙা মোড়ানোর গাম। কেউ ঠোঙা বানাচ্ছেন আবার কেউ সূর্যের তাপে শুকাচ্ছেন তৈরি হয়ে যাওয়া ঠোঙা। প্রায় অর্ধশত বছর ধরে এই কলোনির শতাধিক পরিবার কাগজের ঠোঙা তৈরি করেই জীবিকা নির্বাহ করছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে এই শিল্পের সঙ্গে সড়িত থাকলেও কারিগরদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কোনোমতে জীবন পার করছেন তারা। তবে গত ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই তাদের উদ্দীপনা বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ঠোঙা তৈরির কাজ। বেড়েছে চাহিদা ও আয়।

কথা হয় ঠোঙা তৈরির উদ্যোক্তা ও কারিগর আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে ঠোঙা তৈরির কাজ করছি। বর্তমানে দুই ছেলের বউ, আমি ও আমার স্ত্রীসহ মোট চারজন এই কাজের সঙ্গে জড়িত। আগে মাসে মাত্র ১০-১২ হাজার টাকা আয় হতো। তবে পলিথিন বন্ধ ঘোষণা পর থেকে ঠোঙার চাহিদা বেড়েছে। এতে আয়ও বেড়েছে। গতমাসে ২৫-২৬ হাজার টাকা আয় হয়েছে।’

আনোয়ার হোসেন চান পলিথিন ব্যাগের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই ব্যাগ পুরোপুরি বন্ধ করা হোক।মানসুরা বেগম নামের এক নারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘পলিথিন উঠে গেলে আমাদের জন্য ভালো। যে জায়গায় ১০ কেজি বানাচ্ছি, সে জায়গায় ২০ কেজি বানাবো। তবে ব্যবসা করতে পারছি না টাকার জন্য। পুঁজি বেশি থাকলে কাগজ বেশি কিনোন যায়। পুঁজি নাই, কাগজও কিনি কম। সরকার যদি আমাদের ট্রেনিং দেয় এবং ঋণ দেয়, তাহলে উন্নতি করতে পারবো আরও বেশি।’