গাজার যুদ্ধবিরতি পশ্চিম তীরেও যুদ্ধবিরতির রেশ প্রকাশিত: ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২৫ গাজার যুদ্ধবিরতির রেশ পৌঁছে গেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও। যুদ্ধবিরতির কারণে ইসরায়েলের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন ৯০ ফিলিস্তিনি বন্দি। তাদের মুক্তিকে উদযাপন করতে দেখা গেছে পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের। যুদ্ধবিরতির পর বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে গাজাবাসীও। বাড়ি ফিরে তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। একদিকে যুদ্ধ থামার কারণে তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি কাজ করছে। অন্যদিকে তাদের বাড়িঘর ইসরায়েলি হামলায় মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। খুব কম মানুষই ফিরে গিয়ে নিজের বাড়ি অক্ষত পেয়েছেন। ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) বলছে, গাজার সব বাড়ি হয় ধ্বংস, না হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওসিএইচএ আরও জানায়, গাজার বাড়িঘরের ৯২ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছে। ৪ লাখ ৩৬ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আর ২ লাখ ৭৬ হাজার বাড়ি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ মুহূর্তে ১৮ লাখেরও বেশি মানুষের জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় ও বাড়িঘরের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ প্রয়োজন। জাতিসংঘ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, গাজার আনুমানিক ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেককে একাধিকবার বাড়ি থেকে সরতে হয়েছে। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার মুখে অনেককে ১০ বারেরও বেশি নিজ অবস্থান পাল্টাতে হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে কত সময় লাগবে চলতি মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নবিষয়ক এক প্রতিবেদন বলছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। এগুলো সরাতে ২১ বছর সময় লাগবে এবং ১২০ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এই ধ্বংসস্তূপে দুষিত পদার্থ অ্যাসবেসটোস মিলে গেছে। বেশ কিছু শরণার্থী শিবির ওই উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছিল। সেগুলো প্রতিস্থাপনের আগেই ইসরায়েলি হামলায় তা মিশে গেছে ধ্বংসস্তূপের সঙ্গে। এ ছাড়াও অনেক দেহাবশেষও রয়েছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। সেগুলো বের করা সম্ভব হয়নি। গত রবিবার ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কর্মকর্তা বলেছেন, গাজার উন্নয়ন ৬৯ বছর পিছিয়ে গেছে এ সংঘাতের কারণে। জাতিসংঘ গত বছর জানিয়েছিল, গাজার ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতে অন্তত ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। ত্রাণের জন্য অপেক্ষা গাজাবাসীরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে পারলেও এখনো তাদের হাতে প্রয়োজনীয় রসদ ও ওষুধ পৌঁছায়নি। ইসরায়েল অবশেষে তাদের বোমাবর্ষণ থামিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৫ মাসের আতঙ্কের সাময়িক অবসান হয়েছে। গাজায় সহায়তার ট্রাক প্রবেশের কথা রয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে মোট ছয় শ ট্রাক প্রবেশ করবে গাজায়। গাজার যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৬ হাজার ৯১৩ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ জন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইসরায়েলিগাজারমুক্তি