কাশ্মিরে ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর ৪ মসজিদ প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২৫ সাধারণতম মসজিদের কথা বললে অমাদের চোখে ভেসে উঠে গম্বুজ, উঁচু মিনার আর চকচকে সাদা মার্বেলের চিত্র। কিন্তু কাশ্মিরের কিছু মসজিদ প্রচলিত চিত্র থেকে একেবারেই ভিন্ন। কাশ্মিরের কিছু অঞ্চলের মসজিদ, খানকাহ ও দরগাগুলোর স্থাপত্যশৈলী অনেকটাই আলাদা। এখানে গম্বুজের বদলে দেখা যায় পিরামিড আকৃতির ছাদ, আর মার্বেল বা পাথরের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় সুন্দর নকশাকৃত কাঠ। এই মসজিদগুলো শুধু নামাজ পড়ার জায়গা নয়, কাশ্মির অঞ্চলের সংস্কৃতি, নির্মাণশৈলী আর আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। কাশ্মীরের মসজিদ, খানকাহ এবং দরগাগুলোর স্থাপত্যশৈলী কেন অন্য মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর থেকে আলাদা কেন?— এই প্রশ্ন যে কারোর মনেই জাগতে পারে। এর উত্তর হতে পারে, কাশ্মীরের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে। কাশ্মীরের স্থাপত্যে ইসলামপূর্ব হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্যের প্রভাব, স্থানীয় কাঠ ও আবহাওয়ার উপযোগী নির্মাণশৈলী, আর মধ্য এশিয়ার সুফি সংস্কৃতির সংমিশ্রণ দেখা যায়। এই ভিন্ন ধাঁচের নির্মাণশৈলী কাশ্মীরি মুসলিম পরিচয়ের এক অনন্য রূপ, যা স্থানীয় ঐতিহ্য ও ইসলামি রুচির এক সুদৃঢ় মেলবন্ধন। চতুর্দশ শতকে কাশ্মীরে ইসলামের আগমন। এর আগে অঞ্চলটিতে প্রথমে বৌদ্ধ ধর্ম এবং পরে হিন্দু ধর্মের প্রাধান্য ছিল। কাশ্মীরের মসজিদগুলো দেখতে হিন্দু মন্দিরের মতো নয়, এবং নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণও ভিন্ন—তবুও এর স্থাপত্যশৈলীতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে— কাশ্মীরের মসজিদগুলোর ছাদ পিরামিড আকারের, কাঠ ব্যবহৃত হয় প্রচুর, যা বৌদ্ধ গুম্বজ বা প্যাগোডা আকৃতির স্থাপত্যের সঙ্গে কিছটা মিলে যায়। এই ধরনের ছাদ কাঠামো বৌদ্ধ ও তিব্বতি প্রভাব বহন করে। এছাড়া স্থানীয় জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার জন্য উপযোগী নির্মাণশৈলীর কারণে কাঠের ব্যবহার হয়েছে বেশি। ফলে বলা যায়, কাশ্মীরি মসজিদগুলোর স্থাপত্যশৈলীতে ইসলামি ভাবনার পাশাপাশি বৌদ্ধ ও স্থানীয় ঐতিহ্যেরও একটি ছাপ রয়েছে। ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ -এর পরিচালক হাকিম সামির হামদানি যিনি কাশ্মীরের ধর্মীয় স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরের মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর দিকে তাকালে এক ধরনের বিবর্তন প্রক্রিয়া চোখে পড়ে, যেখানে হিন্দু মন্দিরের ছাপ যেমন দেখা যায়, তেমনি বৌদ্ধ স্থাপত্যশৈলীর প্রভাবও রয়েছে।’ হামদানির মতে, স্থাপত্যশৈলীর দৃষ্টিকোণ থেকে বৌদ্ধধর্ম, হিন্দুধর্ম এবং ইসলাম—এই তিনটি ধর্মেই এক ধরনের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়। ‘কাশ্মীরের মসজিদ, খানকাহ ও দরগাহগুলোর কথা বলতে গেলে দেখা যায়, এগুলোর গড়ন সেই ধরনের, যেমনটা আগে এখানকার মন্দিরগুলোর ছিল। পার্থক্যটা কেবল নির্মাণ উপকরণে। কাশ্মীরে আজও মধ্যযুগীয় যুগের মন্দির রয়েছে, যেগুলো মূলত পাথরের তৈরি। ‘অন্যদিকে, আমরা আজ যেসব মসজিদ বা আস্থানাগুলো দেখি, সেগুলো অধিকাংশই কাঠের তৈরি। অর্থাৎ নির্মাণসামগ্রীর দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু আইকনোগ্রাফি, স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতায় একটি ঐতিহ্যগত ধারাবাহিকতা বিদ্যমান।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব স্থাপনায় যে মোটিফ বা নকশাগুলো দেখা যায়, সেগুলো ইরানি সংস্কৃতির দ্বারা যথেষ্ট প্রভাবিত—যেমন খতম বন্ধ (জ্যামিতিক নকশা), নকশিকাজ ইত্যাদি। তবে স্থাপনাগুলোর সামগ্রিক গড়ন অনেকটাই হিন্দু মন্দিরের মতো।’ SHARES ধর্ম বিষয়: নির্মাণশৈলীসংস্কৃতি