বৃষ্টি হলেই দোকানের বারান্দায় ঠাঁই নিতে হয় হালেকা-রুসমতকে প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ বয়সের ভারে ন্যুব্জ দম্পতি হালেকা খাতুন আর রুছমত আলী। বনের শুকনো কাঠ, গাছের লতা-পাতা আর লাকড়ি সংগ্রহই তাদের উপার্জনের একমাত্র পেশা। বড় ভাইয়ের দেওয়া সামান্য জমিতে বছর কয়েক আগে পুরোনো টিন কিনে ঘর নির্মাণ করে বসতি গড়েন। বর্তমানে সেই ঘরটিও জরাজীর্ণ। ঝড়ে উড়ে গেছে ঘরের অর্ধেক চাল, দরজা যেন থেকেও নেই। তাই বৃষ্টি আর ঝড়ে দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয় হালেকা খাতুন ও রুসমত আলীকে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের জাবেদ আলী মোড়ে বাস করেন ভূমিহীন হালেকা খাতুন আর ৮৫ বছরের অসুস্থ স্বামী রুছমত আলী। বয়সকালে রুছমত দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। জীবন সায়াহ্নে একমাত্র ছেলের সঙ্গে সুখে থাকার কথা থাকলেও অভাবের কারণে সেই স্বপ্ন আজও সত্যি হয়নি। একদিন বনের লাড়কি না কুড়ালে চুলোয় ওঠে না পাতিল। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বন থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে স্থানীয় চায়ের দোকান বা প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করেন। দিন শেষে মেলে একশ থেকে দেড়শ টাকা। আর এই সামান্য উপার্জনেই চলে তিনবেলার আহার। এই আয়ে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে দিশাহারা বৃদ্ধা এই নারী। বিজ্ঞাপন সরেজমিতে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ ঘরের ভেতর স্বামীর সেবায় ব্যস্ত হালেকা বেগম। দুপুরের রান্নার কাজ এখনো শুরু হয়নি। কী রান্না করবেন তারও ব্যবস্থা নেই। ঘরের ফার্নিচার বলতে একটি মাত্র চৌকি। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে থালা বাসন, পানির পাত্রসহ রান্নার কাজে ব্যবহার্য জিনিসপত্র। এসময় কথা হয় হালেকা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা কাজ করেই খেতাম, দুই জনের আয়ে ভালোই চলছিল। বর্তমান আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে, আমার স্বামী এখন অসুস্থ। বেশ কয়েকদিন ধরে তার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। ওষুধ যে কিনে খাওয়াবো, একটা টাকাও আমার হাতে নাই। কাজে গিয়ে আমার পা ভেঙে গিয়েছিল, সুস্থ হওয়ার পর থেকে আমাকে আর কেউ কাজে ডাকে না। আগের মতো কাজও করতে পারি না। বিজ্ঞাপন তিনি বলেন, ঝড়ে আমাদের ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। সেই ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্যও আমাদের নেই। বিভিন্ন মানুষের কাছে গিয়েছি, কেউ আমাদের সাহায্য করেনি। এখন বৃষ্টি এলে ঘরে থাকার কোনো উপায় নেই। ঘরের এক পাশের চাল না থাকায় সরাসরি বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতর পড়ে, উত্তপ্ত রোদ সরাসরি বিছানার ওপর আসে। রোদ আর বৃষ্টি শুরু হলেই বাড়ির সামনের অন্যের দোকানের বারান্দায় আমাদের আশ্রয় নিতে হয় আমাদের। স্বামীসহ বড় ভাইয়ের বাড়ির উঠানে আশ্রয় মিলেছে হালেকা খাতুনের। বড় ভাইয়ের স্ত্রী বলেন, তাদের বিয়ের পর পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া এলাকায় সরকারি খাস জমিতে বসবাস ছিল। খাসজমিতে বসবাস করতে না পেরে এই বাড়িতে চলে আসে। পরে তার স্বামী মানবিক দিক বিবেচনা করে উঠানের মাঝে একটি ঘর করার উপযোগী জায়গা দেন। সেখানে তারা পুরোনো টিন কিনে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। বয়সের ভারে রুছমত আলী এখন কাজ করতে পারে না। ঝড়ে তাদের ঘরের চাল উড়ে যায়। সেই ঝড়ে আশপাশের অনেকের বাড়ির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অন্যরা তাদের ঘর মেরামত করলেও অভাবের কারণে হালেকার ঘরটি মেরামত করতে পারেনি। আক্ষেপ করে হালেকা খাতুন বলেন, সরকার এত এত ভূমিহীনদের ঘর দিলো, তারা কি আমাদের চোখে দেখে নাই, আমরা খুব কষ্ট করে বসবাস করছি। বিজ্ঞাপন এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও শ্রীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিহাব খান/এফএ Download PhotoCard SHARES বাংলাদেশ বিষয়: বৃষ্টি হলেই দোকানের বারান্দায় ঠাঁই নিতে হয় হালেকা-রুসমতকে