সন্তানকে সারাক্ষণ নজরে রাখতে যেসব ট্র্যাকার ব্যবহার করতে পারেন প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ সন্তান স্কুলে গেছে, খেলতে বাইরে বেরিয়েছে কিংবা আত্মীয়ের সঙ্গে কোথাও যাচ্ছে সব সময় অভিভাবকরা তার নিরাপত্তা নিতে চিন্তিত থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিভিন্ন ঘটনায় এই দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এখন সন্তানের অবস্থান জানতে ছোট জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা সবার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে শিশুরা হাত ঘড়িসহ নানান ধরনের জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করেন। যা বাবা-মা বাড়িতে কিংবা কর্মস্থলে থেকেও সন্তানের অবস্থান জানতে পারেন। আমাদের দেশে এ ধরনের জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহারের প্রচলন খুব একটা নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। তবে ট্র্যাকার কেনার সময় শুধু দাম বা ফিচারের সংখ্যা দেখলেই হবে না। ডিভাইসটি কতটা ছোট, ব্যাটারি কতক্ষণ চলে, মোবাইল নেটওয়ার্ক কেমন এবং প্রয়োজনে শিশুর সঙ্গে এটি কতটা সহজে রাখা যায় এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। জিপিএস ট্র্যাকার কীভাবে কাজ করে? জিপিএস ট্র্যাকার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সংকেত ব্যবহার করে নিজের অবস্থান নির্ণয় করে। এরপর মোবাইল নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাই বা অন্য কোনো যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে সেই অবস্থানের তথ্য অভিভাবকের ফোনে পাঠানো হয়। শিশুদের জন্য তৈরি ফোর-জি ট্র্যাকারগুলোতে সাধারণত সিম ও মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের ডিভাইসে শুধু অবস্থান দেখানোর সুবিধাই থাকে না। অনেক মডেলে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে চলে গেলে সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য জিওফেন্স, আগের চলাচলের তথ্য দেখার জন্য লোকেশন হিস্ট্রি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বার্তা বা কল পাঠানোর জন্য এসওএস বাটন থাকে। আরও পড়ুন সন্তান অনলাইন গেমে আসক্ত হলে যা করবেন তবে ট্র্যাকারকে শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে, নেটওয়ার্ক না থাকলে কিংবা শিশু ট্র্যাকারটি খুলে ফেললে অবস্থান জানা সম্ভব নাও হতে পারে। ভবন বা অন্য বাধার কারণে লোকেশন নির্ভুলতাও কমতে পারে। বাংলাদেশে যেসব ট্র্যাকার পাওয়া যায় বাংলাদেশের বাজারে ছোট বহনযোগ্য ট্র্যাকার থেকে শুরু করে শিশুদের জন্য তৈরি স্মার্টওয়াচ বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস রয়েছে। আসুন কয়েকটি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক- জিএফ-২১ জিএফ-২১ মডেলের একটি ছোট ট্র্যাকারের দাম প্রায় ৩ হাজার ৩০০ টাকা। এর ওজন ২০ গ্রাম এবং আকার প্রায় ২.৫ × ৩.৫ × ১.৫ সেন্টিমিটার। জিপিএস, এজিপিএস, ওয়াই-ফাই, এলবিএস, জিওফেন্স, লোকেশন হিস্ট্রি ও এসওএস সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এতে ৪৫০ এমএএইচ ব্যাটারি রয়েছে এবং ২-৩ দিন ব্যাটারি চলার দাবি করা হয়। সাইনোট্র্যাক এসটি-৯০৩ সাইনোট্র্যাক এসটি-৯০৩-এর দাম প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ টাকা। এতে ১ হাজার ৫০ এমএএইচ ব্যাটারি, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, জিওফেন্স ও আইপি৬৭ রেটিং রয়েছে। ব্যাটারি প্রায় ২০ ঘণ্টা এবং স্ট্যান্ডবাই ৭-১০ দিন চলার দাবি করা হয়েছে। সাইনোট্র্যাক এসটি-৯১৫ সাইনোট্র্যাক এসটি-৯১৫-এর দাম প্রায় ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা। ১০ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি, জিপিএস/এজিপিএস/এলবিএস, রুট হিস্ট্রি ও ওয়াটারপ্রুফিংয়ের সুবিধা থাকলেও প্রায় ২০০ গ্রাম ওজন এবং ৭ × ৮ × ২ সেন্টিমিটার আকারের কারণে এটি শিশুর জন্য বহন করা তুলনামূলক কঠিন। এটি মূলত যানবাহনের ট্র্যাকিংয়ের জন্য তৈরি। ইজিট্র্যাক্স পিএল২০০ শিশুদের জন্য সরাসরি বাজারজাত করা ইজিট্র্যাক্স পিএল২০০-এর দাম প্রায় ৮ হাজার টাকা। এতে ফোর-জি এলটিই, টু-জি ফলব্যাক, জিপিএস/বিডিএস, জিএলওএনএএসএস, দুইমুখী কল, লাইভ ম্যাপ ও ৯০ দিনের লোকেশন হিস্ট্রি রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপের পাশাপাশি ওয়েব ড্যাশবোর্ডও দেওয়া হয়। আরও পড়ুন সন্তান গোপনে খারাপ ভিডিও দেখছে? যেভাবে ফোনের সেটিংস সাজাবেন কেনার আগে যা দেখবেন? শিশুর জন্য ট্র্যাকার কেনার ক্ষেত্রে ফোর-জি বা বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্ক সমর্থন, ব্যাটারি ব্যাকআপ, লোকেশন আপডেটের সময়, জিওফেন্স, এসওএস, লোকেশন হিস্ট্রি এবং অ্যাপের মান যাচাই করা জরুরি। ডিভাইসটি ছোট ও হালকা হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সিম ও ডাটা খরচ, অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন এবং বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় অনুমোদন আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ফোর-জি ট্র্যাকার ছাড়াও ব্লুটুথ ট্র্যাকার, যেমন এয়ারট্যাগ বা অ্যান্ড্রয়েডের ফাইন্ড হাব-সমর্থিত ট্যাগ ব্যবহার করা যায়। তবে এগুলো নিজে মোবাইল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে নিয়মিত লোকেশন পাঠায় না। আশপাশের উপযুক্ত ডিভাইসের নেটওয়ার্কের ওপর এগুলোর অবস্থান শনাক্তকরণ নির্ভর করে। তাই এগুলোকে শিশু ট্র্যাকিংয়ের সরাসরি বিকল্প না ভাবাই ভালো। আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি-ট্র্যাকার এমনভাবে রাখা উচিত যাতে শিশুর চলাফেরায় সমস্যা না হয় এবং সহজে হারিয়ে না যায়। বড় ও দামি স্মার্টওয়াচ শিশুর নজরে আসার পাশাপাশি অন্যেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তাই ছোট ও হালকা ডিভাইস অনেক ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহারিক। তবে নিরাপত্তার জন্য ট্র্যাকার ব্যবহার করলে শিশুকেও জানিয়ে রাখা ভালো ডিভাইসটি কেন দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি অবস্থায় কীভাবে ব্যবহার করতে হবে। Download PhotoCard SHARES ফিচার বিষয়: সন্তানকে সারাক্ষণ নজরে রাখতে যেসব ট্র্যাকার ব্যবহার করতে পারেন