মাত্র ১০ মিনিটে রোবট বানাচ্ছে রোবট প্রকাশিত: ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ একসময় রোবট ছিল কেবল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ। এখন শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে গবেষণাগার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের পাশাপাশি কাজ করছে যন্ত্রমানব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির সঙ্গে রোবটের সক্ষমতাও বাড়ছে। এবার চীনে এমন একটি কারখানা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে, যেখানে রোবট তৈরির প্রক্রিয়াতেও রোবটের ব্যবহার করা হচ্ছে। চীনের গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌ শহরে প্রায় ১৪ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ কারখানা। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চীনা রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ইউবিটেক রোবোটিক্স। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এখানে ব্যাপক পরিসরে হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। রোবটই বানাচ্ছে রোবট কারখানাটির অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রোবটের বড় ভূমিকা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখানে যন্ত্রমানবের সহায়তায় নতুন হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করা হচ্ছে। ফলে প্রচলিত কারখানার মতো শুধু মানুষ নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার বদলে স্বয়ংক্রিয়তার মাত্রা অনেক বেশি। ইউবিটেক-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, কারখানাটিতে বছরে প্রায় ১০ হাজার হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। এসব রোবটের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়াকার এস ও ক্রুজার সিরিজের মডেল। আরও পড়ুন ‘এআই আমাদের মেরে ফেলবে’, ভয়ে চাকরি ছাড়লেন গুগলের দুই গবেষক ‘প্রতি ১০ মিনিটে একটি রোবট’ এ ধরনের হিসাব মূলত কারখানার পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা থেকে আসা একটি আনুমানিক চিত্র। অর্থাৎ বছরে ১০ হাজার রোবট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাকে সময়ের হিসাবে ভাগ করলে গড়ে প্রায় কয়েক মিনিট পরপর একটি রোবট উৎপাদনের সক্ষমতা দাঁড়ায়। এটি প্রতিটি রোবট তৈরিতে ঠিক ১০ মিনিট সময় লাগে এমন অর্থে নেওয়া উচিত নয়। কী কাজে ব্যবহার হবে এসব রোবট? ইউবিটেকের হিউম্যানয়েড রোবটগুলো মূলত শিল্প ও লজিস্টিকসের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। পণ্য সরানো, নির্দিষ্ট জায়গায় মালামাল সাজিয়ে রাখা, পরিবহন ব্যবস্থায় পণ্য ওঠানো-নামানোসহ বিভিন্ন শারীরিক কাজে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। মানুষের মতো শরীরের গঠন থাকার কারণে হিউম্যানয়েড রোবটকে এমন কাজের জন্য তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মানুষের ব্যবহৃত পরিবেশ ও সরঞ্জামের সঙ্গে মানিয়ে কাজ করার প্রয়োজন হয়। ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এ ধরনের রোবটের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। কারখানায় কাজ করা রোবটগুলোর কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু নতুন রোবট তৈরি করাই নয়, উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রমানবগুলোর কার্যক্রমও নিয়মিত নজরদারির আওতায় থাকে। রোবটের ভবিষ্যৎ নিয়ে চীনের বড় পরিকল্পনা চীনে হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে আগ্রহ শুধু শিল্পক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি দেশটিতে ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’ আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন হিউম্যানয়েড রোবটকে দৌড়, বক্সিং, ফুটবল ও নাচসহ নানা ধরনের কাজে অংশ নিতে দেখা যায়। এই আয়োজনের মাধ্যমে রোবটের শারীরিক সক্ষমতা ও ভারসাম্য ধরে রাখার ক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রযুক্তির অগ্রগতিও সামনে আসে। মানুষের মতো দেখতে যন্ত্রমানব কতটা দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। আরও পড়ুন এআই কি সত্যিই মানুষের অস্তিত্ব শেষ করবে, কেন এত ভয়? সামরিক ক্ষেত্রেও নজর হিউম্যানয়েড রোবটের সম্ভাবনা নিয়ে চীনের সামরিক ক্ষেত্রেও আলোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক গবেষকদের রোবোটিক প্রযুক্তিকে প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার বিষয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রোবট এবং সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী রোবট এক বিষয় নয়। সামরিক ক্ষেত্রে কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে নির্ভরযোগ্যতা, নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং বাস্তব পরিবেশে কার্যক্ষমতার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিজ্ঞাপন সব মিলিয়ে চীনের লিউঝৌয়ের এই কারখানা হিউম্যানয়েড রোবটের ভবিষ্যৎ উৎপাদনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। মানুষ যে যন্ত্র তৈরি করেছে, সেই যন্ত্রই যদি ভবিষ্যতে আরও উন্নত যন্ত্র তৈরির কাজে অংশ নেয়, তাহলে শিল্প উৎপাদনের ধরন যে আরও বদলাবে, তা বলাই যায়। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে আসবে। কেএসকে Download PhotoCard SHARES তথ্য প্রযুক্তি বিষয়: মাত্র ১০ মিনিটে রোবট বানাচ্ছে রোবট