১০ জনের আর্সেনালকে রুখে দিল চতুর্থ ডিভিশনের ক্লাব ফ্লিটউড

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

ফুটবল লিগে ফ্লিটউড টাউনের ১৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আর্সেনাল, গত আসরের রানার্সআপ। ম্যাচ শুরুর আগে আতশবাজিতে উৎসবের আমেজ, এরপর মাঠে ড্রোনের উপস্থিতিতে খেলা বন্ধ। সব নাটকীয়তা ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্সেনালের বিপক্ষে দারুণ লড়াই উপহার দিল ফ্লিটউড।ম্যাচের শুরুতে গোল করে স্বপ্নের সূচনা করেছিল ফ্লিটউড। পরে ভিক্টর গিয়োকেরেসের গোলে সমতায় ফেরে আর্সেনাল। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্সেনালের তরুণ ফরোয়ার্ড ম্যাক্স ডাউম্যান। যোগ করা সময়ে গোলরক্ষক জশ লিঞ্চের দুর্দান্ত সেভে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের মাধ্যমে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের পরিস্থিতি তৈরি হয়।ম্যাচ শুরুর আগে আতশবাজির মাধ্যমে বড় আয়োজনের আবহ তৈরি করা হয়। কিন্তু খেলা শুরুর এক মিনিটের কিছু বেশি সময় পরই মাঠের ওপর একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলা বন্ধ রাখতে হয় প্রায় আট মিনিট। পরে রেফারি মাইকেল স্যালিসবারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন।এভারটনের বিপক্ষে শনিবারের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচ থেকে একাদশে নয়টি পরিবর্তন আনেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে শুধু মাইলস লুইস-স্কেলি ও ভিক্টর ইয়োকেরেস ছিলেন শুরুতে।তবে পরিবর্তিত একাদশেও শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামে আর্সেনাল। মার্টিন জুবিমেন্দি, কাই হাভার্টজ, ইউরিয়েন টিম্বার ও ক্রিশ্চিয়ান মসকেরার মতো খেলোয়াড়েরা ছিলেন দলে।অন্যদিকে, ফ্লিটউড শুরু থেকেই আর্সেনালকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানায়। খেলোয়াড়েরা শরীর দিয়ে শট আটকান, একের পর এক ব্লক করেন এবং সংখ্যায় বেশি থেকে রক্ষণ সামলান। ফলে আর্সেনাল সহজে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। আগের রাউন্ডে ইপসউইচের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে নজর কাড়া ডাউম্যানের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে স্বাগতিকদের রক্ষণে স্বস্তি ফেরে।আর্সেনালের ওই সুযোগ নষ্ট হওয়ার এক মিনিট পরই উল্লাসে ফেটে পড়ে ফ্লিটউডের সমর্থকেরা। মার্ক হেলমের বাড়ানো বল ধরে এগিয়ে যান লুপালো-বি। আর্সেনালের ১৭ বছর বয়সী মারলি সালমনকে শারীরিক শক্তি ও দৃঢ়তায় পেছনে ফেলে বল নিয়ে বক্সে ঢোকেন তিনি। এরপর আর্সেনালের হয়ে অভিষেক হওয়া গোলরক্ষক ইলান মেসলিয়েরকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান।এমন গোলের পর ম্যাচে এগিয়ে যায় ফ্লিটউড। আর্সেনাল অবশ্য দ্রুত সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে তাদের খেলায় ছন্দের অভাব ছিল।প্রথমার্ধে আর্সেনালের আক্রমণে ধার কম থাকায় বিরতির পর মার্টিন ওডেগার্ড ও বেন হোয়াইটকে মাঠে নামান আরতেতা। বদলির প্রভাব পড়তে সময় লাগেনি। পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সমতায় ফেরে আর্সেনাল।বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ভেতরে ঢুকে নিচু ক্রস বাড়ান উত্তর আয়ারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ফুটবলার সিডাচ ও’নিল। আর্সেনালের হয়ে প্রথম সিনিয়র ম্যাচ খেলতে নামা এই তরুণের ক্রস চলে যায় দূরের পোস্টে। সেখানে ফিনলে পটারের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে পড়ে গেলেও ইয়োকেরেস বলটি গোলরক্ষক লিঞ্চের পাশ দিয়ে জালে পাঠাতে সক্ষম হন।সমতায় ফেরার পর আর্সেনালের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। কাছ থেকে কাই হাভার্টজের শট ঠেকিয়ে দেন লিঞ্চ। পরে লুইস-স্কেলির একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।জয়ের জন্য মরিয়া আর্সেনালের হতাশা বাড়তে থাকে। ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে হ্যারিসন নিলের দিকে লাথি মারেন ডাউম্যান। এর শাস্তি হিসেবে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন আর্সেনালের এই তরুণ খেলোয়াড়। ফলে ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে হয় গানারদের।যোগ করা সময়ে আর্সেনালকে জেতানোর সুযোগ পেয়েছিলেন বেন হোয়াইট ও ওডেগার্ড। কিন্তু দুই খেলোয়াড়ের শটই অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ফ্লিটউড গোলরক্ষক লিঞ্চ। তাঁর দৃঢ়তায় নির্ধারিত সময়ে আর গোল পায়নি আর্সেনাল।গত আসরের ফাইনালে হেরে যাওয়া আর্সেনাল ১৯৯৩ সালের পর আর এই প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিততে পারেনি। এবারও তাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা হাজির করল ফ্লিটউড। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে স্বাগতিকেরা প্রমাণ করেছে, বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে তারা সহজে হার মানতে রাজি নয়।