দিনে ৭ লাখ টাকার বেশি সোনা বের হয় যে আগ্নেয়গিরি থেকে প্রকাশিত: ১২:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ পৃথিবীর অন্যতম ভয়ংকর আগ্নেয়গিরির একটি ইরেবাস। এটি আন্টার্কটিকায় সবচেয়ে উচ্চতম ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। বর্তমান সমীক্ষা অনুসারে আন্টার্কটিকায় বরফের নিচে মোট ২০৭টি আগ্নেয়গিরি শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চায়না পোলার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার-এর বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় এই নতুন ডিজিটাল আর্কাইভ প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালের একটি সমীক্ষা অনুসারে, আন্টার্কটিকায় ১৩৮টি আগ্নেয়গিরি ছিল। যার মধ্যে প্রায় ৯টি সক্রিয় এবং তাদের মধ্যে মাউন্ট ইরেবাস সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে বিখ্যাত। এর উচ্চতা ৩৭৯৪ মিটার। মাউন্ট ইরেবাস রস সাগরের রস দ্বীপে অবিস্থত। ১৮৪১ সালে ক্যাপ্টেন স্যার জেমস ক্লার্ক রস এটি আবিষ্কার করেন। আন্টার্কটিকায় অবিস্থত এই পাহাড়ের গা ঘেঁষে বয়ে পড়ছে গলিত সোনা আন্টার্কটিকায় অনেক আগ্নেয়গিরির মাঝে মাউন্ট ইরেবাস ছাড়া আরও ২টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে রস দ্বীপে। মাউন্ট ইরেবাস পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় একটি আগ্নেয়গিরি হলেও বরফের নিচে থাকার জন্য বহু বছর ধরে এটি নিজের সক্রিয়তা কিছুটা হারিয়েছে। বরফের চাদর একে ওপর থেকে শীতল করলেও ভেতরে রয়েছে প্রচণ্ড উত্তাপ। ইরেবাসের ভেতরে একটি লাভা লেক রয়েছে, যা মাটির একেবারে গভীরে রয়েছে। এর লাভা বেরিয়ে আসার সব মুখগুলো বর্তমানে বরফ দিয়ে ঢাকা। তবে সেগুলো যে কোনো সময় বিস্ফোরণ হতে পারে। এখানে বেশ কয়েকটি গুহা রয়েছে। যাদের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেখানে বাইরের দিকে তাপমাত্রা রয়েছে মাইনাস ৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা তারতম্যের জন্য যে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তাতে যে কোনো সময় লাভা বেরিয়ে আসবে। এই আগ্নেয়গিরির একটি চিমনি বা মুখ রয়েছে। এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। মাউন্ট ইরেবাসের অন্যতম আকর্ষণ এর ভতেরের সোনা। আন্টার্কটিকায় অবিস্থত এই পাহাড়ের গা ঘেঁষে বয়ে পড়ছে গলিত সোনা। আর শুধু সোনাই নয়; আরও বহু মূল্যের নানারকম খনিজ পদার্থ। প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম করে সোনা বেরিয়ে আসছে, যার মূল্য ৬০০০ ডলারের কাছাকাছি ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম করে সোনা বেরিয়ে আসছে, যার মূল্য ৬০০০ ডলারের কাছাকাছি। আগ্নেয়গিরি থেকে গ্যাসের ধাক্কায় ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের আকারে সোনা উঠে আসলেও তা ফুটন্ত লাভার মাঝে থাকায় সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এছাড়া আগ্নেয়গিরিটির রয়েছে অন্যরকম চমক। এর ভতেরে তৈরি হয়েছে অন্য একটি পরিবেশ। সেখানে ছত্রাকজাতীয় বেশ কিছু গাছ রয়েছে। কিছু নতুন ধরনের ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়েছে। যারা আলো ছাড়াই বঁচে থাকতে পারে। এদের মধ্যে এমন অনেক প্রাণী রয়েছে, যেগুলোর অস্তিত্ব এর আগে পৃথিবীতে পাওয়া যায়নি। যা সবাইকে অবাক করেছে। বিজ্ঞানীরা বিস্ময়ের সঙ্গে আরও নতুন তথ্য উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। Download PhotoCard SHARES ফিচার বিষয়: দিনে ৭ লাখ টাকার বেশি সোনা বের হয় যে আগ্নেয়গিরি থেকে