যেসব কারণে মেয়েরা বাবার কাছে মনের কথা লুকায় প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬ ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে হাঁটা, তার কোলে মাথা রেখে গল্প শোনা কিংবা স্কুল থেকে ফিরে সারা দিনের ঘটনা খুলে বলার মধ্যে থাকে একধরনের নিশ্চিন্ত আশ্রয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলাতে পারে। যে মেয়ে একসময় সব কথা বাবাকে বলত, সে-ই হয়তো কৈশোরে এসে নিজের কষ্ট লুকাতে শুরু করে। মন খারাপ হলেও বলে, ‘কিছু হয়নি।’ কোনো সমস্যায় পড়লেও চুপ করে থাকে। এমনকি কারো আচরণে অস্বস্তি বোধ করলেও বাবাকে জানাতে ভয় পায়। কিন্তু কেন? বাবা-মেয়ের সম্পর্কের দূরত্ব কি সব সময় ভালোবাসার অভাব থেকে তৈরি হয়? অনেক সময় এর পেছনে কাজ করে কিছু অভ্যাস, ভয় এবং না বলা অভিমান। বকাঝকা ও শাস্তির ভয় মেয়ে কোনো ভুল করলে বাবা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানান, তার ওপর নির্ভর করতে পারে ভবিষ্যতে সে কতটা খোলামেলা হবে। কোনো কথা বলার পর যদি বকাঝকা, অপমান কিংবা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে সে কথা গোপন করাকেই নিরাপদ মনে করতে পারে। ধরা যাক, স্কুলে কোনো সমস্যায় পড়েছে মেয়ে। বাবাকে জানালে তিনি কী বলবেন, সেই চিন্তাই তাকে আটকে দিল। যদি তার মনে হয়, বাবা সমস্যার কথা শোনার আগেই তাকে দোষ দেবেন, তাহলে সাহায্য চাওয়ার বদলে নীরব থাকতেই পারে সে। মেয়ের ভয়, অভিমান ও অস্বস্তিকে ছোট করে দেখবেন না সব কথার উত্তর যদি হয় ‘তুমি বোঝো না’ মেয়েরা সব সময় পরামর্শ চায় না। কখনো কখনো তারা শুধু চায়, কেউ মন দিয়ে তাদের কথাগুলো শুনুক। কিন্তু মেয়ে কোনো কষ্টের কথা বললেই যদি বাবা বলেন, ‘এত ছোট বিষয়ে মন খারাপ করার কী আছে?’ কিংবা ‘আমাদের সময় এসব ছিল না’, তাহলে তার অনুভূতিগুলো গুরুত্বহীন বলে মনে হতে পারে। শিশুর কাছে ছোট মনে হওয়া কোনো ঘটনাও গভীর কষ্টের কারণ হতে পারে। তাই সমস্যার সমাধান দেওয়ার আগে মেয়ের অনুভূতিটা বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। ব্যক্তিগত কথা নিয়ে উপহাস করা মেয়ের পছন্দ, বন্ধুত্ব, পোশাক কিংবা কৈশোরের আবেগ নিয়ে পরিবারের কেউ হাসাহাসি করলে সে ধীরে ধীরে নিজের ব্যক্তিগত জগৎ গুটিয়ে নিতে পারে। বিশেষ করে, বিশ্বাস করে বলা কোনো কথা যদি অন্যদের সামনে প্রকাশ করা হয়, তাহলে বাবার ওপর আস্থা কমে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা সম্পর্ক গড়তে হলে তার ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন। সব কথা পরিবারের সবার সামনে আলোচনা করাও ঠিক নয়। ‘ভালো মেয়ে’ হওয়ার চাপ অনেক মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়, ভালো মেয়েরা প্রতিবাদ করে না, বড়দের কথার বিরোধিতা করে না, সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়। এমন ধারণা থেকে কোনো মেয়ে নিজের অপছন্দ, রাগ কিংবা অস্বস্তি প্রকাশ করতেও সংকোচ বোধ করতে পারে। বাবার সঙ্গে মতের অমিল হলে যদি তাকে অবাধ্য বলা হয়, তাহলে নিজের মতামত প্রকাশের বদলে চুপ থাকাই তার অভ্যাস হয়ে উঠতে পারে। অথচ সম্মান বজায় রেখেও ভিন্নমত প্রকাশ করা যায়-এই শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু হওয়া দরকার। বাবার রাগের ভয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, অনলাইন যোগাযোগ কিংবা চলাফেরা নিয়ে বাবার সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে। এসব বিষয়ে কথা বললেই যদি ফোন কেড়ে নেওয়া, বাইরে যাওয়া বন্ধ করা কিংবা কঠোর শাস্তির ভয় থাকে, তাহলে মেয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যও লুকাতে পারে। বিশেষ করে, কেউ তাকে বিরক্ত করলে বা অনলাইনে অস্বস্তিকর আচরণ করলে সে ভাবতে পারে, বিষয়টি জানালে উল্টো তাকেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। এতে সাহায্য চাওয়ার পথ সংকুচিত হয়। তাই নিরাপত্তার নিয়ম শেখানোর পাশাপাশি এমন আশ্বাসও দিতে হবে, বিপদে পড়লে সে নির্ভয়ে বাবাকে জানাতে পারবে। যেভাবে মেয়ের আস্থার জায়গা হয়ে উঠবেন বাবা মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কথা বলতেই হবে, এমন নয়। বরং অল্প সময়ের আন্তরিক কথোপকথনও গুরুত্বপূর্ণ। তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শুনুন, সঙ্গে সঙ্গে বিচার করবেন না। কোনো ভুলের কথা জানালে প্রথমেই রেগে না গিয়ে কী ঘটেছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। বিজ্ঞাপনমেয়ে কোনো বিষয়ে কথা বলতে না চাইলে তাকে জোর না করে জানিয়ে দিন, প্রয়োজন হলে আপনি পাশে আছেন। তার ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সম্মান করুন এবং বিশ্বাস করে বলা কথা অকারণে অন্যের কাছে প্রকাশ করবেন না। একই সঙ্গে নিজের মতামত জানানোর সুযোগ দিন, যাতে সে বুঝতে পারে, বাবার সঙ্গে দ্বিমত হলেও ভালোবাসা কমে যায় না। মেয়ে বিপদে পড়লে তাকে দোষারোপ না করে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করা। কারণ, সন্তান যেন ভয় নয়, ভরসা থেকে বাবার কাছে ফিরে আসতে পারে-সেই পরিবেশ তৈরি করাই সুস্থ বাবা-মেয়ের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। Download PhotoCard SHARES নারী ও শিশু বিষয়: যেসব কারণে মেয়েরা বাবার কাছে মনের কথা লুকায়