আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্যের প্রতিবাদ, ক্ষমা চাওয়ার দাবি জামায়াত-শিবিরের

প্রকাশিত: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

 

সোমবার (২৭ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটি এ প্রতিবাদ ও দাবি জানায়।

আইজিপির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ নাগরিকের সেবক, শাসক নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান হিসেবে আইজিপি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা এবং বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। বিনা বিচারে মানুষ হত্যা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে নাগরিকদের তুলে নিয়ে হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনা ঘটেছে। আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যে সেই একই কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির হুমকি ও ইঙ্গিত রয়েছে। এ বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জামায়াতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং মাদক নির্মূলে ব্যর্থতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম অদক্ষতার পরিচয়। নাগরিকদের জীবনযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

অন্যদিকে, সরকারের অনুমতি পেলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে- আইজিপির এমন বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য ঘোষণা সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত। অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধান যখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন, তখন তা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

শিবির নেতারা আরও বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। এসব অধিকার উপেক্ষা করে কারও জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতেও তার বক্তব্যকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের মনোভাব ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

শিবির নেতারা বলেন, কে অপরাধী এবং তার কী শাস্তি হবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা।

এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে, তাহলে আমরা সেটাই করব’।

তবে আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইজিপি তার বক্তব্যে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন।