ইথিওপিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলায় নিহত ৬০

প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির অর্থোডক্স চার্চের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলে এটি অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা। হামলায় পাঁচ শিশুও নিহত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ ও ২৪ অক্টোবর দুই দফায় এসব হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক বাসিন্দা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

চার্চের এক কর্মকর্তা এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হামলা ঠেকাতে পারেনি।

হামলায় স্বজন হারানো এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ আকস্মিক। হামলাকারীরা চারদিক থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলেছিল। এতে তাঁরা আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। ওই ঘটনায় তাঁর ৭৫ বছর বয়সী বাবা নিহত হয়েছেন।

এক স্থানীয় কর্মকর্তা এ হামলার জন্য ‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামের একটি নবগঠিত বিদ্রোহী জোটকে দায়ী করেছেন। ওই জোটের সঙ্গে ওরোমো লিবারেশন আর্মির (ওএলএ) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওএলএ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চের পবিত্র সিনডের বিবৃতিতে হামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে অতীতেও দেশটির সরকার এ ধরনের হামলার জন্য ওএলএকে দায়ী করেছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এর আগে বলেছিলেন, বেসামরিক নাগরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে অর্থোডক্স চার্চ বলেছে, খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বেড়ে চলেছে, যা দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। চার্চের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বেসরকারি সংস্থা ইথিওপিয়ান হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের চার বছরে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন হামলায় ৪৫৮ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে অর্থোডক্স চার্চের অনুসারীদের লক্ষ্যবস্তু করায় এসব হামলাকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে অতীতের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনাও উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চলমান সহিংসতাকে জাতিগত ও ধর্মীয়—দুই ধরনের সংঘাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বর্ণনা করেছেন। আঞ্চলিক সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও ধারাবাহিক সহিংসতা দেশটির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।