৩৩ বছর পর রেশনের চাল-গমের দাম বাড়ল ৮ গুণ প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৪ বাংলাদেশ পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি ১০টি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের দেওয়া রেশনের চাল ও গমের মূল্য নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এত দিন সরকার রেশনের চাল ১ টাকা ৫০ পয়সা ও গম ১ টাকা ২০ পয়সা কেজি দরে বিক্রি করে আসছিল এবং এটা ছিল নির্ধারিত (ফিক্সড)। আগামী ১ জুলাই সোমবার থেকে নতুন দাম হবে চাল ১১ টাকা ২০ পয়সা ও গম ৯ টাকা ২০ পয়সা কেজি। এর আগে দর নির্ধারিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে অর্থাৎ ৩৩ বছর আগে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থ বিভাগ ২৪ জুন প্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানের জনবলের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে রেশনসামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রে চাল ও গমের বিক্রয় মূল্য পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক একটি পরিপত্র জারি করেছে।পরিপত্রে বলা হয়েছে, ১০টি প্রতিষ্ঠানের রেশন পাওয়া চাকরিজীবীদের কাছে চাল ও গমের বিক্রয় মূল্য হবে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চাল ও গমের নির্ধারিত অর্থনৈতিক মূল্যের ২০ শতাংশ। বিভাগটি বলেছে, অর্থ বিভাগ থেকে প্রতি অর্থবছরের শুরুতে চাল ও গমের অর্থনৈতিক মূল্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হবে।তবে অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, ইতিমধ্যে প্রতি কেজি চালের অর্থনৈতিক মূল্য ৫৬ টাকা ৩৮ পয়সা এবং প্রতি কেজি গমের অর্থনৈতিক মূল্য ৪৬ টাকা ১ পয়সা করা হয়েছে। এই দামের ২০ শতাংশ হিসেবে রেশনের চাল ১১ টাকা ২০ পয়সা এবং গম ৯ টাকা ২০ পয়সা কেজি দরে বিক্রি হবে। অর্থাৎ সরকারের প্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০ প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের এখনকার চেয়ে প্রায় ৮-৯ গুণ বেশি দামে রেশনের চাল ও গম কিনতে হবে। তবে মূল্যবৃদ্ধির পরও তাঁরা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে রেশনের চাল ও গম পাবেন। চার সদস্যের একটি পরিবার চাল ও গম মিলিয়ে পায় ৬০ কেজির বেশি। এ ছাড়া ভোজ্যতেল,চিনি ও মসুর ডাল পেয়ে থাকেন তাঁরা; কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান রেশনে চা-ও বিক্রি করে। অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী রেশনের চাল ও গম বিক্রি করা হবে ১০টি প্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের জনবলের কাছে। এগুলোকে ‘বিশেষ জরুরি হিসেবে প্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (সেনা, নৌ ও বিমান), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কারা অধিদপ্তর, বেসরকারি প্রতিরক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ অধিদপ্তর এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। নতুন অর্থবছর শুরু হবে আগামী ১ জুলাই। ওই দিন থেকেই চাল ও গমের নতুন দর কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচি চলমান। আইএমএফের দিক থেকে ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ আছে। সরকারেরও চেষ্টা রয়েছে ভর্তুকি কমানোর। কোন প্রতিষ্ঠানের কতজন রেশন পাচ্ছেন, তার একটি পরিসংখ্যানও তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ। এক কর্মকর্তা জানান, মোট ১০ প্রতিষ্ঠানের জনবল ১০ লাখের বেশি। তবে নতুন সিদ্ধান্তে কত টাকা সাশ্রয় হবে, সেই হিসাব এখনো করা হয়নি। সূত্রগুলো জানায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনবল আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের আওতায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী দেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ৫ লাখ ১৭ হাজারের বেশি। ২০২৩ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী দেশে সেনাবাহিনীতে ১ লাখ ৭৫ হাজার, নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার এবং বিমানবাহিনীতে ২১ হাজার সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে দেশে পুলিশ সদস্য রয়েছেন দুই লাখের বেশি। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী বিজিবির সদস্য ৩৪ হাজার ৫৩০ জন। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিরক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপণ অধিদপ্তরে প্রায় ১১ হাজার, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) ২ হাজারের বেশি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এক হাজারের বেশি জনবল রয়েছে। এসএসএফ, এনএসআই ও কারা অধিদপ্তরের সদস্য সংখ্যা জানা যায়নি। Download PhotoCard SHARES জাতীয় বিষয়: গমচালরেশনসামগ্রী