স্কুলে শিক্ষক সংকট, দপ্তরি নিচ্ছেন ক্লাস! প্রকাশিত: ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৪ গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে ‘দপ্তরি’কে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এর মধ্যে তাদের সন্তানদের নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নের আঙ্গুটিয়াচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, শিক্ষক সংকটের কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দিন দিন স্কুলে শিক্ষার্থী হ্রাস পাচ্ছে। সরেজমিনে বোরবার সকালে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. সুমন হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুলে দুই শিফটে ক্লাস হয়। প্রতি শিফটে একসঙ্গে তিনটি করে ক্লাস হয়। স্কুলে বর্তমানে চারজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ দুইজনই প্রশিক্ষণে আছেন। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক মাসুদ মিয়া ঈদের বন্ধের আগে ১৩ জুন থেকে গাজীপুরের চাপুলিয়া এলাকায় লিডারশিপ ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। তার ট্রেনিং চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত। সহকারী শিক্ষক নিগার সুলতানাকে এ বছরের ১ জুলাই থেকে গাজীপুর শহরের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ১০ মাসের (বিটিপিটি) ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়েছে।” এতে স্কুলে থাকা দুইজন শিক্ষকের পক্ষে একই সঙ্গে তিনটি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, শুধু এখনই নয়, বছরের অধিকাংশ সময় শিক্ষকের এমন সংকট থাকে। তখনই দপ্তরি সুমন ক্লাস নিয়ে নেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশেই তিনি ক্লাসে যান। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবা আক্তার বলেন, তাদের স্কুলে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষকের পদ রয়েছেন। বর্তমানে সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক মাসুদ মিয়া এবং সহকারী শিক্ষক নিগার সুলতানা প্রশিক্ষণে আছেন। “এ অবস্থায় সহকারী শিক্ষক হাবিবা আক্তার ও ফরিদা ইয়াছমিনকে প্রথম শিফটে ও দ্বিতীয় শিফটের ছয়টি ক্লাস নিতে হচ্ছে। একই শিফটে একসঙ্গে তিনটি করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। কোনো কোনো সময় শিশু শ্রেণির ক্লাসটি অর্ধেক সময় নিয়ে বাকি সময়ে অন্য দুই ক্লাস নিতে হয়।” তবে দুই শিক্ষকের পক্ষে একই সঙ্গে তিনটি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না বলে অনেক সময় দপ্তরি সুমন ক্লাস নিয়ে থাকেন বলে জানান এই শিক্ষিকা। স্কুলের শিক্ষক অভিভাবক কমিটির (পিটিএ) সভাপতি মাজহারুল হক বলেন, “শিক্ষক সংকটের মধ্যে দুইজন শিক্ষক একত্রে স্কুলের বাইরে কীভাবে প্রশিক্ষণে যান? শিক্ষা অফিস কীভাবে তাদের ট্রেনিংয়ের অনুমতি দিলেন, এটা আমার বোধগম্য নয়। এ ছাড়া বছরের অন্য সময়েও নিয়মিত সব ক্লাস হয় না। “অভিভাবকরা এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পরে অনেকেই তাদের সন্তানদের এ স্কুল থেকে অন্যত্র নিয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। আমার জানা মতে, সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণির প্রথম সুমাইয়া, চতুর্থ শ্রেণির ফারিয়া ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইসরাতসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্য স্কুলে চলে গেছে। বর্তমানে এ স্কুলে ১৩০ শিক্ষার্থী রয়েছে।” সকালে সন্তানকে স্কুলে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন অভিভাবক শরিফা বেগম। তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “এ স্কুলে নিয়মিত সব ক্লাস হচ্ছে না, বিশেষ করে শিশু শ্রেণিতে পুরো সময় ক্লাস হচ্ছেই না। এখানে টিফিনের ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা এমনকি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয় না। আমরা এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।” একই রকম অভিযোগ করেন অভিভাবক কুলসুম বেগম ও নাজমা বেগম। Download PhotoCard SHARES শিক্ষা বিষয়: অভিভাবকরাঅভিযোগদপ্তরি’কে