পণ্যে ভরপুর বাজারে দামও কম প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৫ এবার আগেভাগেই দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে রমজানের পণ্যে ভরপুর। শুধু জানুয়ারি মাসেই যে পরিমাণ আমদানি হয়েছে তা দিয়ে অনেকটা সামাল দেওয়া যাবে রোজার মাসের চাহিদা। আগের ছয় মাসেও আমদানি হয়েছে যথেষ্ট। ফেব্রুয়ারিতে খালাসের অপেক্ষায় আছে চিনি, ছোলা, ডাল, তেল, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্যের আরও বড় বড় চালান। ফলে বাজারে দামও গতবছরের তুলনায় কম। রমজানের অন্যতম অনুষঙ্গ ছোলা। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি ২০২৫ সালের শুধু জানুয়ারি মাসেই ছোলা খালাস হয়েছে ৯৭ হাজার ১৮১ টন। অথচ পুরো রমজানে দেশে ছোলার চাহিদা রয়েছে এক লাখ টনের মতো। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে খালাস হয়েছিল ৬৬ হাজার ৪০ টন ছোলা। রাজস্ব বোর্ডের সূত্র বলছে, সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি ভালোমানের ছোলা বিক্রি হয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। মধ্যমমানের ছোলা বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা কেজিতে। গত বছর রমজানের আগে একই ছোলা বিক্রি হয়েছিল ৯৩ টাকা থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে। শুধু ছোলা নয়, খাতুনগঞ্জসহ দেশের পাইকারি বাজারে মসুর, মটর ডালও বিগত বছরের চেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে। একইভাবে ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুনের সরবরাহও বেশি। ভোজ্যতেল বাদে প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দামও কম। পাইকারি ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম আর বাড়ানো না হলে পাইকারি বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। দেশে রমজানে চাহিদা থাকা পণ্য ও আমদানি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন, কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, দেশে প্রতি বছর ২০-২২ লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। শুধু রমজান মাসে চাহিদা থাকে ৩ লাখ টন। জানুয়ারি মাসে অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার টন। এখনো চারটি জাহাজ থেকে বন্দরে অপরিশোধিত চিনি খালাস হচ্ছে। দেশে প্রতি বছর ভোজ্যতেলের চাহিদা ২৩ থেকে ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে রমজানে চাহিদা থাকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টন। গত জানুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টন ভোজ্যতেল। বছরে দেশে ছোলার চাহিদা থাকে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে ১ লাখ টনের মতো চাহিদা থাকে শুধু রমজান মাসে। চলতি ২০২৫ সালের শুধু জানুয়ারি মাসেই ছোলা খালাস হয়েছে ৯৭ হাজার ১৮১ টন। ফেব্রুয়ারি মাসেও ছোলা খালাস হবে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে খালাস হয়েছিল ৬৬ হাজার ৪০ টন ছোলা। মসুর ডালের চাহিদা বছরে প্রায় সাত লাখ টন। এর মধ্যে ২ লাখ টনের মতো দেশে উৎপাদন হয়। বাকি ৫ লাখ টন মসুর ডাল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে রমজানে চাহিদা থাকে এক লাখ টনের মতো। রমজানে সমপরিমাণ মটর ডালের চাহিদা রয়েছে। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে মসুর, মটরসহ নানান ডাল আমদানি হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ১০৫ টন। ডলার সংকটের কারণে আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যভেদে শতভাগ এলসি মার্জিন ছিল। বছরে খেজুরের চাহিদা প্রায় ৯০ হাজার টন। এর মধ্যে রমজানে চাহিদা থাকে ৫০ হাজার টনের কাছাকাছি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে ২১ হাজার ২৬১ টন। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৬ হাজার ২৩৯ টন খেজুর। ফেব্রুয়ারি মাসে আরও বেশি খেজুর আমদানি হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানিতে এলসি মার্জিন শিথিল ১১ নিত্যপণ্যে অন্তর্বর্তী সরকার রমজান মাস সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১১ ধরনের নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন শিথিল করে। গত ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ ধরনের একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে। পণ্যগুলো হচ্ছে- চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ডিম, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর। তবে যেসব আমদানিকারকদের লেনদেনে স্বচ্ছতা রয়েছে তারা এলসির ক্ষেত্রে ব্যাংকের সুবিধা বেশি পাচ্ছে। এরপর থেকেই এসব পণ্য আমদানি বাড়তে থাকে। Download PhotoCard SHARES জাতীয় বিষয়: ছোলাবিক্রি