কলঙ্কমুক্তির সংস্কার, প্রভাবমুক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ চায় পুলিশ

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২৫

‘কলঙ্কমুক্তির জন্য’ পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মের পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

সোমবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা এ দাবি উত্থাপন করেছেন।

স্বনিয়ন্ত্রিত ও স্বাধীন পুলিশ কমিশনের বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বাধীন ও স্বশাসিত কমিশন গঠন করা সম্ভব না হলে পুলিশ তার পুরোনো নেতিবাচক চরিত্রে ফিরে যাবে– এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তারা।

বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বড় ঘটনাগুলোয় ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন যানবাহন নেই। অপারেশনাল কাজে জরুরি ভিত্তিতে যানবাহন প্রয়োজন।

এতে পুলিশের পরিবহন সংকটসহ লজিস্টিক সুবিধার ঘাটতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো ‘রাজনৈতিক পক্ষপাত’ এর সঙ্গে জড়িত না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া দেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), রেঞ্জ ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক), মহানগর পুলিশ কমিশনার, সব ইউনিটের প্রধান, সব অতিরিক্ত আইজিপি অংশ নেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব ও রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) ফারজানা ইসলাম।

বাহিনীকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে

বৈঠকে ডিআইজি আহসান হাবিব বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বিপর্যস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ। জন আস্থাহারা ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে মনোবল হারিয়েছিল পুলিশ। ৫ ও ৬ আগস্টের পর এই বাহিনীর কিছু বিপথগামী পুলিশ সদস্যের দ্বারা বাহিনীকে ধ্বংসের সর্বশেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। পরাজিত সেই শক্তির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তা আমরা নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, এই অপচেষ্টার পর অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল রাজারবাগ পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগণের নিরাপত্তা দিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরা। জনসম্মুখে নিজের পরিচয় দিতেও আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস ছিল ৫-৬ আগস্টের পরবর্তী সময়টায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল কুমিল্লা পুলিশ লাইনস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা, লোহাগড়া থানা, পাহাড়তলি থানা। বিভিন্ন থানার যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, আলামত, রেজিস্ট্রার্ডসহ যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ চিত্র শুধু চট্টগ্রামে নয়, সমস্ত বাংলাদেশের। লুট করা হয় অস্ত্র গোলাবারুদ। যার সব এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করছি। এ বিষয়ে আমরা হয়ত বড় সংবাদ খুব দ্রুতই উপস্থাপন করতে পারব।

এই ডিআইজি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে ধ্বংসলীলার পর দায়িত্ব পালন করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। আমরা কার্যক্রম চালু রেখেছি। মামলাগুলো বিশেষ করে তদন্ত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।

দায়িত্ব পালনে পুলিশ চায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তি

বৈঠকে উপস্থিত একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শন না করতে প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা বাহিনীতে এমন সংস্কার চাই, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারি।’