রাজনীতি নিষিদ্ধ বেরোবি ক্যাম্পাসে পদ বাঁচাতে উপাচার্যের তৎপরতা প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার পরও নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে এবার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া শওকাত আলী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের পর বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে ‘জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ নামে শিক্ষকদের একটি সংগঠনের ব্যানারে একটি গোপন সভার আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন-২ এর ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ‘স্বাধীনতার ঘোষণার ৫৫ বছর: সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সভায় দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত সার্চ কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালযয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হাসান খানকে অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহা. হাছানাত আলী ও কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহা. রাশেদুল ইসলামের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ অনুষ্ঠানের বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয় এজন্য উপাচার্য তার পছন্দের ২৫ জন শিক্ষক ও ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওই সভায় উপস্থিত থাকতে বলেছেন। ওই সভার আমন্ত্রণ পত্রটিও গোপনে ছাপানো হয়েছে। আমন্ত্রণ পত্রের একটি কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। এদিকে গোপন এ সভার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাত থেকেই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে সভার ভেন্যুর সামনে একই সময়ে ‘ক্যাম্পাসে শিক্ষক রাজনীতি চালুর প্রতিবাদ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তারা। এসময় সেখানে সংবাদ সম্মেলনও করবেন। জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে যখন শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ তখন বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের ক্যাম্পাসে ডেকে এনে কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেআইনি। একইসাথে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত সার্চ কমিটির তিনজন সদস্যকে ডেকে এনে সেমিনার আয়োজন উক্ত সার্চ কমিটির নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সভার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান কালবেলাকে বলেন, জাতীয়তাবাদী ফোরাম একটি পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আর এ সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বরেণ্য শিক্ষকরা উপস্থিত থাকবেন। জানতে চাইলে কালবেলা প্রতিবেদকের প্রশ্ন শুনেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী। তিনি বলেন, আপনি আমাকে ফোন করছেন কেন? এটা আমি আয়োজন করছি? এ সময় উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটির তিনজন সদস্যকে অতিথি করা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা আপনি শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করেন। আমি এটার আয়োজন করিনি, আমি জানিও না। আমি নিজেও এখানে অতিথি। SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: উপাচার্যবেরোবিরংপুররাজনীতি