মারাকানার সেই জয়ই বদলে দিয়েছিল আর্জেন্টিনার ভাগ্য: নিকোলাস ওতামেন্দি

প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬

দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটানোর শুরুটা হয়েছিল ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে আনহেল দি মারিয়ার একমাত্র গোলে স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। সেই জয়কেই দলের ভাগ্য বদলের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি।

এরপর একের পর এক সাফল্য ধরা দেয় আলবিসেলেস্তেদের হাতে। ২০২২ সালে ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ, আর ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে ওতামেন্দি বলেন, “প্রথম শিরোপা জয়ের পর থেকেই আমাদের মনে হয়েছিল ভালো সময় সামনে অপেক্ষা করছে। তবে মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জেতাটাই ছিল আমাদের টার্নিং পয়েন্ট। ওই জয় আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সেই ম্যাচের পর আমরা প্রতিটি টুর্নামেন্টে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলেছি। শুধু জেতার জন্য নয়, প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়েও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কাতার বিশ্বকাপে আমরা দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, আর সেই ঐক্যই আমাদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের শেষ বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শেষে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

নিজের বিদায় নিয়ে আবেগের কথা জানিয়ে ওতামেন্দি বলেন, আমি হারতে পছন্দ করি না। অনুশীলন কিংবা ম্যাচ—কোনোটাতেই কখনো ভাবি না যে এটি আমার শেষ। সতীর্থদের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি। তবে যখন বিদায়ের কথা ভাবি, তখন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। আমি জানি, আমার সময় শেষের দিকে। আশা করি, বিদায়ের আগে আরেকবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ নিতে পারব।

বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। অভিজ্ঞ ওতামেন্দির প্রত্যাশা, ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপেও দলের সাফল্যের গল্পে তিনি রাখতে পারবেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।