ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে নিহত সৈনিক ছিদ্দিকের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য আবু বকর ছিদ্দিক পিয়াসের দাফন নোয়াখালীতে সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কবিরহাটের গ্রামের বাড়িতে জানাজা ও গার্ড অব অনার শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে ছিদ্দিকের মরদেহ মাইজদী শহীদ বুলু স্টেডিয়ামে আনা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

মরদেহ পরিবারের সদস্যদের দেখানোর পর নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের মুন্সী সর্দার বাড়ির সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

এ সময় একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পিয়াসের বাবা আব্দুল ওহাব ও মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বামীকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রীও। ১৮ মাস বয়সের সন্তানের মুখে বাবা ডাক শোনার আগেই পরপারে চলে গেলেন তিনি।

নিহত সৈনিক আবু বকর ছিদ্দিক পিয়াস মালিপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র ভাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ২০২৩ সালে বিয়ে করেন। তাদের ১৮ মাস বয়সের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্বজনেরা জানান, ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের ছিলেন ছিদ্দিক। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।

দেশের সেবায় নিয়োজিত তরুণ সেনাসদস্য আবু বকর ছিদ্দিকের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবাসহ স্বজনেরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পিয়াসের ভগ্নিপতি আবু সাঈদ বলেন, পরিবারে ছিদ্দিকই ছিল একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। ছোটবেলা থেকেই শান্ত ও সহজ-সরল স্বভাবের ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলত। তার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত অমায়িক। এ কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছেও সে খুবই প্রিয় ছিল। আমরা সরকারের কাছে পরিবারটির জন্য সহায়তা চাই।

এর আগে বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। ​এতে ছিদ্দিকসহ দুই সেনা সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।

​কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন আবু বকর ছিদ্দিক। সরকারি যেকোনো সহায়তা পেতে পরিবারের পাশে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়াবে প্রশাসন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এনএইচআর