স্পেনের সামনে নতুন পরীক্ষা রাজকীয় ছন্দ নাকি অস্ট্রিয়ার বিদ্রোহ

প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২৬

নকআউটে সৌন্দর্যের কোনো বাড়তি নম্বর নেই। এখানে বলের দখল, নিখুঁত পাস কিংবা পরিসংখ্যানের আধিপত্য শেষ পর্যন্ত একটাই প্রশ্নে এসে থামে—জিতেছ কি না?এক রাতেই বদলে যেতে পারে একটি দলের আত্মবিশ্বাস, একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, এমনকি একটি দেশের ফুটবল স্মৃতিও। এবার সেই বাস্তবতায় মুখোমুখি স্পেন ও অস্ট্রিয়া।

স্পেন এসেছে নিজেদের পরিচিত ছন্দ নিয়ে।বল নিজেদের কাছে রাখা, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলা।

গ্রুপ পর্বে স্পেন ছিল প্রায় নিখুঁত। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট, পাঁচ গোল, এখনও পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি।শুরুতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র, এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষে বড় জয়, আর শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১–০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে নকআউটে এসেছে তারা। টানা কয়েকশ মিনিট ধরে গোল না খাওয়ার রেকর্ড তাদের ডিফেন্সের দৃঢ়তার প্রমাণ।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে তারা অসংখ্য আক্রমণ করেও গোল পায়নি। বল ছিল, নিয়ন্ত্রণ ছিল, সুযোগ ছিল।ছিল না শুধু শেষ ছোঁয়া।

দলটির ভরসা এখনও তাদের মাঝমাঠ আর সংগঠিত ফুটবল। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন গত কয়েক বছরে নিজেদের নতুন পরিচয় তৈরি করেছে। লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস পুরোপুরি ফিট নন।

অন্যদিকে অস্ট্রিয়া  দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলছে।তাদের হারানোর কিছু নেই, পাওয়ার আছে অনেক কিছু। ১৯৮২ সালের পর এবারই তারা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রথম পর্ব পেরিয়ে এসেছে।

গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার পথচলা ছিল নাটকীয়। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই, গোলে ভরা ম্যাচ, শেষ মুহূর্তের সমীকরণ সবকিছু পেরিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২–এ। তিন ম্যাচে ছয় গোল করেছে, আবার ছয় গোল হজমও করেছে।

কোচ রালফ রাংনিকের দর্শন পরিষ্কার। সুযোগ পেলে দ্রুত সামনে ওঠো, ম্যাচের গতি বাড়াও, প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলো।

দলের সেরা পারফরম্যার মার্কো আরনাউটোভিচ। বয়স বেড়েছে।মাঝমাঠে মার্সেল সাবিৎজার অস্ট্রিয়ার ইঞ্জিন। ম্যাচ যদি খোলা জায়গায় যায়, তাহলে অস্ট্রিয়া বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

স্পেন চাইবে বল নিজেদের কাছে রাখতে, ধৈর্য ধরে ফাঁক খুঁজতে। অস্ট্রিয়া চাইবে ম্যাচটাকে ভাঙতে, দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠতে। স্পেন যত বেশি সময় গোল ছাড়া থাকবে, অস্ট্রিয়ার আত্মবিশ্বাস তত বাড়বে। আর অস্ট্রিয়া যদি প্রথম গোল পেয়ে যায়, তাহলে ম্যাচ পুরোপুরি অন্য রূপ নিতে পারে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের আলোয় এক দল নামবে নিজেদের রাজকীয় নিয়ন্ত্রণকে গোলের ভাষা দিতে। আরেক দল প্রমাণ করতে চায় বিশ্বকাপে বিস্ময় কখনও আগাম ঘোষণা দিয়ে আসে না।