জার্মানির সেই গোল বাতিল প্রসঙ্গে কড়া জবাব ফিফার

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২৬

প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিদায়ের ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফুটবল বিশ্ব। তবে ম্যাচ শেষ হলেও থামেনি বিতর্ক। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির বাতিল হওয়া সেই গোলটি নিয়ে এবার মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান এবং ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

ম্যাচটিতে জোনাথান তাহের গোলে জার্মানি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি এর হস্তক্ষেপে মাঠের রেফারি জালাল জায়েদ গোলটি বাতিল করে দেন। রেফারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গোল হওয়ার মুহূর্তে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ফাউল করেছিলেন জার্মান খেলোয়াড় ভালদেমার আন্তন।

গোল বাতিল হওয়ায় পরে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচটি যাতে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির প্রথম এই লজ্জাজনক হারের স্বাদ পায় জার্মানরা। এরপর নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি কোচ নাগেলসম্যান। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে তিনি বলেন, আমার মতে, এই ফাউলটি কোনো আসল ফাউলই ছিল না; ওটার মতো একটা গোল বাতিল করে দেওয়াটা আসলে একটা কৌতুক।

নাটকীয়ভাবে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় এবং টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় প্যারাগুয়ে। মজার ব্যাপার হলো, যে জোনাথান তাহের গোল বাতিল হয়েছিল, তিনিই টাইব্রেকারে তাঁর স্পট-কিকটি বারের ওপর দিয়ে মেরে বসেন। আর সেই সুযোগে হোসে কানালের নেওয়া শেষ কিকটিতে জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।

নাগেলসম্যানের এমন প্রকাশ্য ক্ষোভের পর চুপ থাকেনি ফিফাও। ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান এবং কিংবদন্তি সাবেক রেফারি পিয়েরলুইজি কলিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রেফারিদের এই ধরণের ফাউল কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ আগে থেকেই দেওয়া ছিল।

কলিনা বলেন, কোনো খেলোয়াড় যদি বল খেলার চেষ্টা না করে কেবল প্রতিপক্ষকে ব্লক করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে পজিশন পরিবর্তন করে বাধা সৃষ্টি করে, তবে রেফারি এবং প্রয়োজনে ভিএআর সেখানে হস্তক্ষেপ করবে। বিশেষ করে গোলরক্ষকদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোর।

কোচদের উদ্দেশ্য করে কলিনা আরও যোগ করেন, কোচ এবং খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপের আগেই এই বিষয়ে পরিষ্কারভাবে অবহিত করা হয়েছিল। তাই রেফারিরা যখন এই ধরণের ফাউলের শাস্তি দেবেন, তখন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

জার্মানিকে বিদায় করে রূপকথা তৈরি করা প্যারাগুয়ে এখন শেষ ১৬-র লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়াতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে তারা।