ভারতে খেলতে পাকিস্তানের ‘না’, সুযোগ মিলতে পারে বাংলাদেশের!

প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ভারতে খেলতে পাকিস্তানের ‘না’, সুযোগ মিলতে পারে বাংলাদেশের!
সংগৃহীত ছবি
ক্রিকেটের পর এবার হকির মাঠেও আছড়ে পড়ল ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক বৈরিতার ঢেউ। নিরাপত্তার অজুহাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশটিতে পা রাখতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (পিএইচএফ)।

আর পাকিস্তানের এই নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আসন্ন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কপাল খুলতে পারে বাংলাদেশের। 

আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের মুম্বাই ও জলন্ধরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছেলেদের হকির মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি’।

কিন্তু আয়োজক দেশ ভারত হওয়ায় সেখানে দল না পাঠানোর চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। 

এশিয়ান হকি ফেডারেশনের (এএইচএফ) কাছে পিএইচএফ ইতিমধ্যেই দুটি বিকল্প প্রস্তাব বা শর্ত রেখেছে।

তাদের প্রথম দাবি, পুরো টুর্নামেন্টই ভারত থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে নেওয়া হোক। আর সেটি সম্ভব না হলে, অন্তত পাকিস্তানের ম্যাচগুলো যেন নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে আয়োজন করা হয়।
 

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’ এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে এবং টুর্নামেন্ট বয়কট করে, তবে তাদের শূন্যস্থানে সুযোগ পাবে বাংলাদেশ অথবা ওমান। এই টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ ও ওমানকে ‘রিজার্ভ’ বা স্ট্যান্ডবাই দল হিসেবে রাখা হয়েছে।

ভারতে দল না পাঠানোর কারণ হিসেবে দুই দেশের বর্তমান স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার অভাবকেই সামনে এনেছেন পিএইচএফ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ওয়ানি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক বেশ স্পর্শকাতর। জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপদ এবং অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে পাকিস্তানের কোনো আপত্তি নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ওয়ানি। তিনি বলেন, ‘আমরা খেলাধুলাকে রাজনীতিমুক্ত রাখার নীতিতে বিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের (এফআইএইচ) সদস্য হিসেবে ভারতসহ যেকোনো দেশের বিপক্ষেই খেলতে পাকিস্তান প্রস্তুত।’

মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তানের এই আনুষ্ঠানিক নাম প্রত্যাহারের আগে ভারতের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ভিন্ন কথা জানিয়েছিলেন। বহুজাতিক ক্রীড়া আসর হওয়ায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত চিত্রটা পাল্টে গেল।

এবারের টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে চীন, জাপান, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার। আয়োজক ভারত এবার মাঠে নামবে হ্যাটট্রিক শিরোপার খোঁজে। ২০২৩ সালে নিজেদের ঘরের মাঠ চেন্নাইয়ে এবং ২০২৪ সালে চীনের হুলুনবুইরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

ভারতে পাকিস্তানের হকি দল না পাঠানোর ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ দেখিয়ে গত বছর তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বিশ্বকাপ হকি থেকেও নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল পাকিস্তান।

হকির বর্তমান এই পরিস্থিতি মূলত ক্রিকেটেরই প্রতিচ্ছবি। ২০২৪ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মধ্যকার চুক্তির পর থেকে দুই দেশের পারস্পরিক সফর পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সেই চুক্তির প্রভাব দেখা গেছে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে, যেখানে আয়োজক পাকিস্তান হওয়া সত্ত্বেও ভারত তাদের ম্যাচগুলো খেলেছিল দুবাইয়ে।

একই বছর ভারতে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান তাদের ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কায়। এমনকি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়।

ক্রিকেটের সেই ‘নিরপেক্ষ ভেন্যু’ নীতির পথেই এবার হাঁটতে চাইছে পাকিস্তানের হকি। এখন দেখার বিষয়, এশিয়ান হকি ফেডারেশন পাকিস্তানের দাবি মেনে নেয়, নাকি তাদের বাদ দিয়েই টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সুযোগ বয়ে আনতে পারে।

  • এমএইচএম/
  • এআর