যে কারণে শিশু আইন পরিবর্তন করে বয়স কমানোর কথা বললেন মিলন

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

সভ্য রাষ্ট্রের রাজনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা ও পারিবারিক মূল্যবোধ কেমন হওয়া উচিত- তা সহজেই বলা যায়, কিন্তু বাস্তবে তা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সবাই ভাল ভাল কথা লিখছে। সমাজ তত্ত্ব বা রাষ্ট্র বিজ্ঞান কিংবা ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখি একটা সভ্য রাষ্ট্রের রাজনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার ব্যবস্থা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক শিক্ষা কেমন হবে, তা যে কোনো এআই বা চ্যাট জিপিটিকে জিজ্ঞেস করলে গড়গড় করে বলে দেবে। একটা লাইন ভুল হবে না। আঁতলামি সহজ, বাস্তবায়ন আর কায়েম সাত আসমান স্পর্শ করার মত কঠিন। অন্তত আমাদের মত পিশাচ অসভ্য এবং বর্বর জাতির ক্ষেত্রে।’

তিনি লেখেন, ‘একটা আসামি জেল থেকে বারবার বা একশতবার জামিন পেয়ে একশতবারই একই বা আরও ভয়াবহ অপরাধ করলেও আপনি জামিনদারের একটা হিন্দি চুলও ছিঁড়তে পারবেন না। আইনে নেই। বাংলাদেশের শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তি শিশু হিসেবে গণ্য হয়। আর এই শিশুরা খুন, ছিনতাই, ডাকাতি সব অহরহ করে বেড়াচ্ছে।’

‘শিশু অপ্রতীমের খুনিরা ১৮ বছরের নিচে হলে শিশু হিসেবে গণ্য হবে। আর এই প্রায় ১৮ বছরের (মরদ) খুনি শিশুদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি কি জানেন? শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩৪(১) অনুযায়ী, একজন (প্রায় মরদ) খুনী শিশুর শাস্তি ন্যূনতম ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আদেশ দিতে পারে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ধারা ৩৩-এ অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শিশু আদালত মরদ শিশু খুনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিতে পারে। কিন্তু শাস্তি ঐ, ৩-১০ বছর কারাবাস। বারবার জামিনে বের হয়ে অপরাধ করার জামিনদারদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আইন করেন।’

আরও পড়ুন

মাহবুব কবির মিলন / দেশ আজ ‘মবল্যান্ডে’ পরিণত, সামর্থ্য থাকলে বাচ্চাদের বিদেশ পাঠান

তিনি লেখেন, ‘শিশু আইন পরিবর্তন করে ১৮ বছরের পরিবর্তে ১৩/১৪ বছরের নিচে, শিশু হিসেবে গণ্য করে, উপরের সবার ফাঁসির ব্যবস্থা করুন। আর বাবা মায়েরা কীভাবে সন্তান মানুষ করবেন। ছেলেমেয়েদের প্রতি কীভাবে নজরদারি বা খেয়াল রাখবেন। বুঝিয়ে নাকি আমাদের যেভাবে বাবা মায়েরা মেরে-কেটে মানুষ করেছে, নাকি মনা-মনা, সোনা-সোনা বলে কোলে করে মানুষ করবেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। যার যাবে, মাথা চাপড়াবে শুধু সেই। আমরা আবার ভাল ভাল কথা আর বচন শুরু করব।’