ওয়াশিংটন-ব্রাসেলসের মধ্যে ঢাকার পক্ষ নেওয়ার প্রয়োজন নেই প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেছেন, ঢাকাকে কখনোই ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না। ব্রাসেলস সবসময় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। এর মানে এই নয় যে, আমরা যা খুশি মেনে নেব, তবে আমরা কখনোই এমন কোনো শর্ত দেবো না যেখানে ওয়াশিংটনের বিপরীতে ব্রাসেলসকে বেছে নিতে হয়। আমরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পরস্পরবিরোধী জোটের সংঘাত হিসেবে দেখে না ফ্রান্স। দেশটি ‘পশ্চিম বনাম পূর্ব’ কিংবা ‘উত্তর বনাম গ্লোবাল সাউথ’-এর মতো বিভাজনেও বিশ্বাস করে না। রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও দেশগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থাকা উচিত বলে মনে করে। কোনো জোটের অংশ হওয়া মানেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা নয়। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গোলের ন্যাটো বিষয়ে অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, কোনো সামরিক জোটের সঙ্গে যুক্ত থেকেও একটি দেশ নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ফ্রান্স যখন কোনো দেশের কাছে রাফাল বিক্রি করে, তখন বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ও ‘চাবি’ সেই দেশের হাতেই থাকে। ফ্রান্স তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না কিংবা কোনো কাজে বাধা দেয় না। এভাবেই সংশ্লিষ্ট দেশ নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখে। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান রেখে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত ফ্রান্স। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি ২০২৩ সালের বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ বিবৃতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে স্থিতিশীল ও বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরও বিস্তৃত সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হয়। Download PhotoCard SHARES জাতীয় বিষয়: ওয়াশিংটন-ব্রাসেলসের মধ্যে ঢাকার পক্ষ নেওয়ার প্রয়োজন নেই