কলকাতা নিউমার্কেট অগ্নিকাণ্ড: তালা না থাকলে বাঁচানো যেত আরও প্রাণ: শুভেন্দু প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ প্রায় ৩৫ দিন পর কলকাতার নিউমার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের সময়ে দুটি মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে- একটি তারাপীঠে, অপরটি কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায়। তবে দুটি ক্ষেত্রেই আগুনে দগ্ধ হয়ে নয়, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কলকাতার রেড রোডে দমকল বিভাগকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও কার্যকর করে তুলতে নতুন প্রজন্মের অগ্নিনির্বাপন ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজ্যে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে- তারাপীঠের একটি হোটেল এবং কলকাতার নিউমার্কেটের একটি হোটেলে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রাণহানি ঘটেছে, তবে কেউ আগুনে পুড়ে মারা যাননি; ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, দমকল বিভাগের রিপোর্ট দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার কথায়, ‘রাজ্যে হোটেল ব্যবসার নামে যেন যত্রতত্র ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। এর আগে কোনো নজরদারি ছিল না।’ পুলিশ ও দমকলের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, নিউমার্কেটের হোটেলে অবস্থানরত অতিথিরা যাতে টাকা না দিয়ে ভোরে বেরিয়ে যেতে না পারেন, সে কারণে মূল প্রবেশদ্বারে তালা দেওয়া ছিল। ‘এভাবে কোনো হোটেলের প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ রাখা যায় না। এর ফলেই মানুষ বের হতে না পেরে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে নিদারুণ কষ্টে মারা গেছেন। এটি অত্যন্ত করুণ ও বেদনাদায়ক ঘটনা, বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার পুলিশ তাকে জানিয়েছে যে, ভোর ৫টার দিকে খবর পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ও দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ওই ঘটনায় তারাপীঠের হোটেল থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। একইভাবে কলকাতার নিউমার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলের আগুনের ঘটনায় দমকল বাহিনী বাইরে থেকে সিঁড়ি লাগিয়ে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করেছিল। তার দাবি, দমকলের দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, আগের প্রশাসনের সময়ে কেন হোটেলগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না এবং কেন হোটেল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের ওপর নজরদারি করা হয়নি। উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট ভোররাতে বীরভূমের তারাপীঠে ‘বিদেশিনী’ নামের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশু ও এক নারীসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়। পুলিশের তথ্য মতে জানা যায়, হোটেলের রিসেপশন এলাকা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে আবাসিকদের মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর, ১৯ আগস্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে এসির শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে জানা যায়। ওই ঘটনায় এক শিশু ও দুই নারীসহ সাত বাংলাদেশি এবং দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়। দমকল বাহিনী সেখান থেকে প্রায় ৮০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। দুটি ঘটনাতেই তদন্তে উঠে আসে, হোটেলের মূল প্রবেশপথে তালা লাগানো ছিল। অভিযোগ, ভোরে অতিথিরা যাতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বের হতে না পারেন, সে কারণেই এক্সিট পয়েন্ট বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে আগুন লাগার পর অনেকেই বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পাননি। পরপর এই দুই অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে হোটেল পরিচালনার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে ৭০০-রও বেশি হোটেল, গেস্ট হাউস ও লজে অতিথি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কলকাতার নিউমার্কেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২৯২টির বেশি হোটেল বন্ধ করা হয়। তবে সম্প্রতি প্রশাসন ৪১টি হোটলকে পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে। ভিএস/ আরএ Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: কলকাতা নিউমার্কেট অগ্নিকাণ্ড: তালা না থাকলে বাঁচানো যেত আরও প্রাণ: শুভেন্দু
প্রায় ৩৫ দিন পর কলকাতার নিউমার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের সময়ে দুটি মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে- একটি তারাপীঠে, অপরটি কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায়।
তবে দুটি ক্ষেত্রেই আগুনে দগ্ধ হয়ে নয়, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কলকাতার রেড রোডে দমকল বিভাগকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও কার্যকর করে তুলতে নতুন প্রজন্মের অগ্নিনির্বাপন ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজ্যে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে- তারাপীঠের একটি হোটেল এবং কলকাতার নিউমার্কেটের একটি হোটেলে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রাণহানি ঘটেছে, তবে কেউ আগুনে পুড়ে মারা যাননি; ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, দমকল বিভাগের রিপোর্ট দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার কথায়, ‘রাজ্যে হোটেল ব্যবসার নামে যেন যত্রতত্র ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।
এর আগে কোনো নজরদারি ছিল না।’ পুলিশ ও দমকলের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, নিউমার্কেটের হোটেলে অবস্থানরত অতিথিরা যাতে টাকা না দিয়ে ভোরে বেরিয়ে যেতে না পারেন, সে কারণে মূল প্রবেশদ্বারে তালা দেওয়া ছিল। ‘এভাবে কোনো হোটেলের প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ রাখা যায় না। এর ফলেই মানুষ বের হতে না পেরে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে নিদারুণ কষ্টে মারা গেছেন। এটি অত্যন্ত করুণ ও বেদনাদায়ক ঘটনা, বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার পুলিশ তাকে জানিয়েছে যে, ভোর ৫টার দিকে খবর পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ও দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ওই ঘটনায় তারাপীঠের হোটেল থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। একইভাবে কলকাতার নিউমার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলের আগুনের ঘটনায় দমকল বাহিনী বাইরে থেকে সিঁড়ি লাগিয়ে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করেছিল। তার দাবি, দমকলের দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, আগের প্রশাসনের সময়ে কেন হোটেলগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না এবং কেন হোটেল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের ওপর নজরদারি করা হয়নি। উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট ভোররাতে বীরভূমের তারাপীঠে ‘বিদেশিনী’ নামের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশু ও এক নারীসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়। পুলিশের তথ্য মতে জানা যায়, হোটেলের রিসেপশন এলাকা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে আবাসিকদের মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর, ১৯ আগস্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে এসির শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে জানা যায়। ওই ঘটনায় এক শিশু ও দুই নারীসহ সাত বাংলাদেশি এবং দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়। দমকল বাহিনী সেখান থেকে প্রায় ৮০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। দুটি ঘটনাতেই তদন্তে উঠে আসে, হোটেলের মূল প্রবেশপথে তালা লাগানো ছিল। অভিযোগ, ভোরে অতিথিরা যাতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বের হতে না পারেন, সে কারণেই এক্সিট পয়েন্ট বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে আগুন লাগার পর অনেকেই বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পাননি। পরপর এই দুই অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে হোটেল পরিচালনার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে ৭০০-রও বেশি হোটেল, গেস্ট হাউস ও লজে অতিথি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কলকাতার নিউমার্কেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২৯২টির বেশি হোটেল বন্ধ করা হয়। তবে সম্প্রতি প্রশাসন ৪১টি হোটলকে পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে।