ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক

প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

ভারতের ট্রেন পরিষেবা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন পোল্যান্ডের ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডমিনিকা পাতালাস-কালরা। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ভ্রমণের পর ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে ভারতের এই ট্রেনের খাবার, আসনের আরাম ও সময়ানুবর্তিতার তুলনা করেছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতায়, কয়েকটি ক্ষেত্রে বন্দে ভারতের পরিষেবা ইউরোপের ট্রেনের চেয়েও ভালো লেগেছে।

সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ডমিনিকা। বিশেষ করে ট্রেনে পরিবেশিত খাবার ও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর বিষয়টি তার নজর কেড়েছে।

ইনস্টাগ্রামে ডমিনিকা জানান, বন্দে ভারতে ওঠার পর তাকে পানি, মশলা চা, বিস্কুট ও খাবার দেওয়া হয়। তিনি নিরামিষ খাবার বেছে নিয়েছিলেন। তার খাবারের তালিকায় ছিল পোহা, দুটি কাটলেট, দই ও একটি মাফিন। ডমিনিকার মতে, খাবারের এই অভিজ্ঞতা ইউরোপের ট্রেনের তুলনায় ভালো। তার অভিজ্ঞতায়, ইউরোপের ট্রেনে সাধারণত পানি ও চকলেটের মতো সামান্য খাবারই দেওয়া হয়।

আসনের আরামের বিষয়ে অবশ্য ভারত ও ইউরোপের ট্রেনের মধ্যে তেমন পার্থক্য খুঁজে পাননি তিনি। দুই জায়গার ট্রেনের আসনই তার কাছে পরিষ্কার ও আরামদায়ক মনে হয়েছে।

তবে সময়ানুবর্তিতার বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে অবাক করেছে। ডমিনিকার বন্দে ভারত নির্ধারিত সময়েই পৌঁছেছিল। তিনি জানান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ট্রেন পরিষেবার অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। পোল্যান্ডে ভ্রমণের সময় তাঁকে প্রায়ই ট্রেনের দেরির মুখে পড়তে হয়েছে।

কী বলছেন নেটাগরিকেরা?

ডমিনিকার পোস্টের পর মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “অন্য ইনফ্লুয়েন্সারদের মতো নয়, ১০ ডলারের বেশি খরচ করে ভারতের ভালো দিক তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।”

আরেকজনের মন্তব্য, “ভারত এখনও উন্নয়নশীল দেশ, তবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই নেতৃত্ব দেবে।” কেউ আবার লিখেছেন, “ইউরোপের চেয়েও অনেক ভালো।”

এক নেটাগরিক তাঁকে ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্য একজন অবশ্য সাধারণ এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তার পরামর্শ, সাধারণ ট্রেনে যাতায়াত করতে হলে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরার টিকিট নেওয়া ভালো। তা না হলে অভিজ্ঞতা খারাপ হতে পারে।

আরেক ব্যবহারকারীর মতে, ভ্রমণের সময় আরামদায়ক পরিষেবা নেওয়ার সামর্থ্য থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। তার বক্তব্য, অনেক বিদেশি পর্যটক খরচ কমাতে সংরক্ষণবিহীন কামরায় যাতায়াত করেন এবং রাস্তার খাবার খান। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে কেউ কেউ নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভারতের খাবার, আবাসন ও পরিবহণ ব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেন।

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ডমিনিকার অভিজ্ঞতা ভারতের রেল পরিষেবা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ট্রেনের পরিষেবা, ভ্রমণশ্রেণি, রুট ও সময়ানুবর্তিতা দেশ ও অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে। তাই একটি যাত্রার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভারতের সব ট্রেনের সঙ্গে ইউরোপের সব ট্রেনের তুলনা করা যায় না।