৪ লাখ টাকার আইফোন ডুওর ডিসপ্লে ভাঙলে খরচ কত জানেন?

প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

ভাঁজ করা আইফোন হাতে পাওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই। কিন্তু প্রায় ৪ লাখ টাকা দামের এই ফোন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের খরচও যে বড় হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। তাই আইফোন ডুও কেনার আগে অ্যাপল কেয়ার+ পরিষেবার খরচ ও সুবিধাগুলো জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন হিসেবে ‘আইফোন ডুও’ নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে ভারতে এই মডেল বিক্রি শুরু হওয়ার কথা। ফোনটির প্রারম্ভিক দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে এত দামি ডিভাইস কেনার পর সেটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের খরচ কতটা হতে পারে, সেটিও ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই জায়গাতেই কাজে আসতে পারে অ্যাপল কেয়ার+। ফোন কেনার সময় অতিরিক্ত প্রায় ৫১ হাজার টাকা খরচ করে এই পরিষেবা নেওয়ার সুযোগ থাকছে। এর আওতায় দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি বা নির্দিষ্ট কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম খরচে সার্ভিস পাওয়ার সুবিধা থাকবে।

আইফোন ডুও-তে রয়েছে দুটি ডিসপ্লে একটি বাইরে এবং অন্যটি ফোন খুললে সামনে থাকা বড় স্ক্রিন। অ্যাপল কেয়ার+ থাকলে বাইরের ডিসপ্লে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি মেরামতের জন্য খরচ হতে পারে মাত্র ২,৫০০ টাকা। অন্যদিকে, ভেতরের বড় ডিসপ্লেতে সমস্যা হলে সেটি বদলানোর খরচ নির্ধারিত রয়েছে প্রায় ৮,৯০০ টাকা।

শুধু স্ক্রিন নয়, দুর্ঘটনায় ফোনের অন্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই পরিষেবা কাজে আসতে পারে। অ্যাপল কেয়ার+ কভারেজের আওতায় থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট ধরনের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে প্রায় ৮,৯০০ টাকায় মেরামতের সুবিধা পাওয়া যাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনের পেছনের কাচ ভেঙে গেলেও খরচ তুলনামূলকভাবে কম। এমন ক্ষেত্রে প্রায় ২,৫০০ টাকা দিয়ে সেটি মেরামত করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

আইফোন ডুও হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলেও অ্যাপল কেয়ার+ অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা দিয়ে নতুন একটি ডিভাইস পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই সুবিধার ক্ষেত্রে পরিষেবার নির্দিষ্ট শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।

অন্যদিকে, অ্যাপল কেয়ার+ না থাকলে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে ফোল্ডেবল ফোনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশগুলোর একটি ডিসপ্লে। তাই দুর্ঘটনায় স্ক্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের খরচ অনেক বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, অ্যাপল কেয়ার+ ছাড়া ডিসপ্লে মেরামতে প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে এই অঙ্কটি নিয়ে অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

ফলে প্রায় চার লাখ টাকা দামের আইফোন ডুও কেনার ক্ষেত্রে শুধু ফোনের দাম নয়, বিক্রি-পরবর্তী পরিষেবার খরচও মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে ভাঁজ করা ফোনের ডিসপ্লে সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় জটিল হওয়ায় দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে সুরক্ষা পরিষেবা নেওয়া ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।