ইরানের কট্টর শাসন যাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৪ ইরানে নারীদের একটা সময় ভোটাধিকার, উচ্চশিক্ষার অধিকার এবং সন্তান নেওয়া বা না নেওয়ার অধিকার ছিল। কিন্তু ১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পর ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা চালু হয়। সে সময় ঘরের বাইরে নারীদের হিজাব পরা এবং চুল ঢেকে রাখার নিয়ম চালু হয়। ধীরে ধীরে নারীদের কিছু কিছু চাকরিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চালু হয়। এর পাশাপাশি সন্তানকে হেফাজতে নেওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়। আবার চাকরি বা দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে স্বামী অথবা পুরুষ অভিভাবকের অনুমতির নিয়ম চালু করা হয়। ইরানে বছরের পর বছর দমন–পীড়ন ও হয়রানি সত্ত্বেও নারীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। ২০২২ সালে মাসা আমিনির মৃত্যু সমগ্র ইরানে আবারও ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। নারী, জীবন ও স্বাধীনতা- স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশটির রাজপথ। চলতি মাসে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সংস্কারপন্থি মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইসলামপন্থি গোঁড়ামির কারণে অতিষ্ঠ ইরানের লাখো মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যেই পরিবর্তনের হাওয়া দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। নিজের ক্যামেরার লেন্সে সে দৃশ্যের অনেকটাই তুলে ধরেছেন ফটোসাংবাদিক ফারাউ আলেই। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ফটোগ্রাফি শুরু করি, আমার পরিবার থেকে শুরু করে, বন্ধুবান্ধব সবাই সতর্ক করেছিল। তাদের মতে, এখানকার নারীদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’ এসব কথা শোনার পরেও থেমে যাননি ফারাউ। নিজের সাহসিকতায় সামনের দিকে এগিয়ে যান। ফারাউ বলেন, ‘আমার এই প্রকল্প ইরানের রোল মডেলদের কেন্দ্র করে। যাদের কাঁধে ভর করে এই প্রজন্ম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্যাবু ভেঙ্গেছে, তারাই আমার ক্যামেরায় উঠে এসেছেন।’ ইরানের কট্টর শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অবিচল থেকেছেন যারা, চলুন দেখি তাদের এক ঝলক- কিয়ানা ইয়ারহমাদি ও নিলুফার ফারাহমান্দ ইরানে একেবারে শুরুর দিকে গাড়ি মেকানিকের কাজ শুরু করেন যেসব নারী, তাদের অন্যতম ছিলেন কিয়ানা ইয়ারহমাদি ও নিলুফার ফারাহমান্দ। অটো-মেকানিক ইনস্টিটিউটগু লোতে নারীদের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স না থাকায়, তারা নিজেরাই নিজেদের শেখাতে শুরু করেন। ইনস্টাগ্রামে এসব প্রশিক্ষণের ভিডিও প্রকাশ করলে তা ভাইরালে রূপ নেয়। এলনাজ রেকাবি ২০২১ সালে মস্কোতে আইএফএসসি ক্লাইম্বিং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জেতেন ইরানের এই পর্বতারোহী। কিন্তু তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন পরের বছর। সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাথায় কোনো স্কার্ফ ছাড়াই সিউলে আইএফএসসি এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন তিনি। সেইবার কোনো পদক জেতেননি এলনাজ। কিন্তু সবার মুখে মুখে ছিল একটাই ধ্বনি, ‘এলনাজ দ্য চ্যাম্পিয়ন’। আজম সানেই আজম ইরানের নারী আইস হকি দলের অধিনায়ক ও সহকারী কোচ। মাত্র ১৪ বছর বয়সে হকি খেলতে শুরু করেন আজম। আজমের পদাঙ্ক যারা অনুসরণ করতে চান, তাদের জন্য তাঁর পরামর্শ, পুরো পৃথিবী তোমার কাছে যা চায়, সেটি বাস্তবতা নয়। আমাদের মনে আর হৃদয়ে যা রয়েছে, সেটিই হলো বাস্তবতা। যদি ইচ্ছা আর প্যাশন থাকে, তাহলেই পরিবর্তন ও সফলতা অবশ্যই আসবে। পারভা কারখানে বিয়ে এবং সন্তান পালন ছিল উত্তরপশ্চিম ইরানের কুর্দি অঞ্চলের রক্ষণশীল পরিবারের নারীদের কর্তব্য। এই চিরাচরিত ভূমিকার বাইরে গিয়ে পারভা নিজেকে একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে পরিস্থিতির কারণে গ্যালারি, এমনকি নিজের ঘরেও তাঁকে অনেক ছবি কাগজ বা কাপড়ে ঢেকে রাখতে হয়। পারভার মতে, কিছু দেয়াল সব সময়ই থাকবে, যা আমাদের চিন্তাকে সীমাবদ্ধ করে রাখে। Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: পেজেশকিয়ানমৃত্যু