হামজা চৌধুরী কি নতুন ত্রাতা, নাকি দিক বদলের উপলক্ষ্য? প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২৫ ১৭ মার্চ দুপুরের দিকে একটি দীর্ঘ শরীর নামলো সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। মাথাভরা ঝাঁকড়া চুল। মুহূর্তেই তাকে ঘিরে তৈরি হলো জনঅরণ্য। অনেক প্রতীক্ষার প্রহর শেষে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় ভিজে যিনি ইংল্যান্ড থেকে এলেন, তিনি হামজা চৌধুরী (Hamza Choudhury)। পুরো নাম হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ইংল্যান্ডের আলো-হাওয়া আর সিস্টেমে বেড়ে ওঠা ফুটবলার। ইতিহাসে এত বড় প্রোফাইলের ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দল কখনো পায়নি। সত্যিটা বললে, পাওয়ার স্বপ্নই আগে দেখেনি। চারদিকে ১২০ ডেসিবেলের ক্যাকোফোনি। ক্লান্তি স্পষ্ট শরীরে। ঘামছেন। তারই মধ্যে সাংবাদিকদের চাহিদামতো প্রশ্নের উত্তরে হামজা সিলেটি কলোকিয়ালে বললেন, ‘…আমরা উইন খরমু’। ২৫ মার্চ মঙ্গলবার, বাংলাদেশের সিলেট সন্নিহিত উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শৈল শহর শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি জেতা যাবে কি না, সেটি রাত দশটার দিকেই জানা যাবে। তার আগে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়েও কোটি কোটি চোখ ওই ঝাঁকড়া চুলো দীর্ঘ শরীর আর আট নম্বর জার্সিতে আটকে থাকবে। বাংলাদেশ কি জিতবে? পুরো দেশই প্রত্যাশায় রঙিন। প্রত্যাশার তীরকে হামজাই অনেক উঁচুতে বেঁধে দিয়েছেন, ওই যে দেশের জার্সি গায়ে তোলার আগেই বলে দিয়েছেন, ‘…আমরা উইন খরমু’! জিতলে হামজা জ্বরে পারদ চড়বে অস্বাভাবিক। ড্র করলেও হামজা উন্মাদনা ভাটার টান দেখার সম্ভাবনা কম। এ ম্যাচে হয়তো পারা গেল না, কিন্তু ফিরতি ম্যাচ জিততে হামজা-টনিক তো থাকছেই। হেরে গেলেই সর্বনাশ। আমাদের স্বভাবগত আবেগ চোট পাবে। আমরা মুখ ফসকে তখন বলেও ফেলতে পারি, হামজাকে দিয়ে আর হবে না। বিনা বিনিয়োগে সাফল্যের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাদের সামান্যতেই হতাশ করে। জানি না আমরা কতটা তলিয়ে দেখতে রাজি থাকবো যে, ১১ জনের ফুটবলে একজন মাত্র খেলোয়াড় কোনো জাদুদণ্ড দিয়ে অলৌকিক কিছু করতে পারে না। ২০০৫ সালে সাফ ফুটবলে পাকিস্তান দলের হয়ে খেলা জেশ রেহমান (Zesh Rehman)-এর উদাহরণ আমরা ভুলিনি। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে সেবার খেলতে আসেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ফুলহ্যামে খেলা ডিফেন্ডার। তেমন কিছুই করতে পারেননি। সেমিফাইনালে জেশের পাকিস্তানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে আর খেলতে দেখা যায়নি জেশকে। Download PhotoCard SHARES ফুটবল বিষয়: চাহিদামতোঝাঁকড়াহামজা