সিটি গ্রুপকে সচল রাখতে ২৬,৬০০ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনে ৩৬ ব্যাংক

প্রকাশিত: ৪:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে সচল রাখতে এবং এর ২৬,৬০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া ঋণ—যৌথভাবে পুনর্গঠনের কথা বিবেচনা করছে দুটি বিদেশি ব্যাংকসহ মোট ৩৬টি ব্যাংক। বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পগোষ্ঠী।

এই সিন্ডিকেটেড পুনর্গঠন কাঠামো চূড়ান্ত করতে ব্যাংকগুলোর আজ হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রুপটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রভিশনিংয়ের (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) চাপ এড়ানো। ব্যাংকিং খাতের সূত্রগুলো জানায়, ঋণগুলোকে এখনই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করে—এই প্রস্তাবের আওতায় তা পুনর্গঠন করা হবে এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হবে।

সিটি গ্রুপের এই ঋণগুলো এখনও শ্রেণীকৃত করা হয়নি। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা আজকের বৈঠকের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগোষ্ঠীটির বার্ষিক আয় প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা এবং এখানে প্রায় ২৫,০০০ কর্মী কর্মরত আছেন।

অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে খরচ হচ্ছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে—সেসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিটি গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড) ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন। যদি ৩৬টি ব্যাংকই একমত হয়, তবে তারা পর্ষদে বসার জন্য দুই বা তিনজন প্রতিনিধি মনোনীত করবে। এটি মূলত বৈশ্বিক ঋণ পুনর্গঠন মডেল এবং ‘ওয়াটারফল মেকানিজম’ অনুসরণ করে করা হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় ৩৬টি ব্যাংকের যৌথ মালিকানায় একটি কেন্দ্রীয় এসক্রো অ্যাকাউন্ট থাকবে। ওয়াটারফল মেকানিজমের আওতায়, সমস্ত নগদ অর্থ বা ক্যাশ ফ্লো এই অ্যাকাউন্টে জমা হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি হয়, তবে সেই টাকা প্রথমে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এরপর সেই ১০০ টাকা থেকে ৮০ টাকা সিটি গ্রুপকে চলতি মূলধন হিসেবে ফেরত দেওয়া হবে এবং বাকি ২০ টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানও এই প্রস্তাবিত সমাধানের সাথে একমত পোষণ করেছেন।