যুদ্ধের পৃথিবীতে শান্তির শেষ আশ্রয় কোথায়?

প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

মানচিত্রে যুদ্ধ শুরু হয় সীমান্তে, কিন্তু তার ক্ষত কখনো সীমান্তে আটকে থাকে না। একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি ভবন ধ্বংস করে; তার সঙ্গে ধ্বংস হয় একটি পরিবারের নিরাপত্তাবোধ। একটি বোমা একটি বিদ্যালয়কে নিশ্চিহ্ন করে; তার সঙ্গে থেমে যায় অসংখ্য শিশুর শৈশব। একটি শহর দখলের লড়াই শুরু হয় ভূখণ্ড নিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত উদ্বাস্তু হয় মানুষ, ভেঙে পড়ে পরিবার, বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতাল, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। যুদ্ধের অভিঘাত তাই শুধু গোলার শব্দে নয়; তার দীর্ঘ প্রতিধ্বনি শোনা যায় মানুষের জীবনে, অর্থনীতিতে এবং প্রজন্মের স্মৃতিতে।

২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে এই দিনটি বিশ্বকে শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে প্রশ্নটি যেন আরও তীব্র—শান্তির প্রয়োজন যখন এত বেশি, তখন মানুষ বারবার যুদ্ধের দিকে ফিরে যায় কেন?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর পৃথিবী একটি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিল—যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের জন্ম। কিন্তু আট দশক পরও পৃথিবীর নানা প্রান্তে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, দখল, সামরিক সংঘাত ও সহিংসতা চলছে। প্রযুক্তি বদলেছে, যুদ্ধের অস্ত্র আরও ভয়ংকর হয়েছে, কিন্তু যুদ্ধের সবচেয়ে পুরোনো শিকার—সাধারণ মানুষ—আজও একই রয়ে গেছে।

যুদ্ধের দাম কে দেয়?

যুদ্ধের সিদ্ধান্ত সাধারণত ক্ষমতাবানরা নেন। কিন্তু যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে থাকে না।

একজন কৃষক তাঁর জমি হারান। একজন শ্রমিক তাঁর কাজ হারান। একটি পরিবার ঘর ছাড়ে। একটি শিশু স্কুল হারায়। একজন মা সন্তান হারান। একটি হাসপাতাল চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে পড়ে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, তত বাড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসার সংকট।

অর্থনীতিতেও যুদ্ধের অভিঘাত সীমান্ত পেরিয়ে যায়। জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত, সরবরাহব্যবস্থার সংকট—সবকিছুর প্রভাব গিয়ে পড়ে দূরের দেশগুলোর সাধারণ মানুষের ওপরও।

অর্থাৎ যুদ্ধ এখন আর শুধু দুটি দেশের সমস্যা নয়। বিশ্ব অর্থনীতি পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত যে একটি অঞ্চলের সংঘাতের অভিঘাত অন্য মহাদেশের বাজারেও পৌঁছে যায়।

এই বাস্তবতা আমাদের একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—যে যুদ্ধের মূল্য শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে দিতে হয়, সেই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেন এত অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে থাকবে?

যেদিন একটি শিশুর নিরাপদ ঘুমকে একটি রাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত বিজয়ের চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া হবে, যেদিন একটি নিরস্ত্র মানুষের জীবনকে ভূরাজনীতির হিসাবের বাইরে মানবিক সত্য হিসেবে দেখা হবে, যেদিন ভিন্নমতকে ধ্বংস করার বদলে বোঝার চেষ্টা করা হবে—সেদিনই হয়তো পৃথিবী সত্যিকারের শান্তির দিকে এক ধাপ এগোবে।

অস্ত্রের বাজার যত বড়, শান্তির জায়গা কি তত ছোট?

আধুনিক বিশ্বে সামরিক শক্তি শুধু নিরাপত্তার উপকরণ নয়; এটি বড় অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক শিল্পও। দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে, উন্নত অস্ত্র সংগ্রহ করছে, নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র—যুদ্ধের চরিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

প্রযুক্তি যুদ্ধকে আরও নিখুঁত করার দাবি করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যুদ্ধকে নিখুঁত করা কি যুদ্ধকে মানবিক করে?

একটি দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র হয়তো একজন সৈনিকের ঝুঁকি কমায়, কিন্তু যে ঘরে বিস্ফোরণ ঘটে, সেখানে থাকা মানুষের কষ্ট কমায় না।

আরও বড় উদ্বেগ হলো, অস্ত্র প্রতিযোগিতা কখনো কখনো নিরাপত্তার নামে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়। একটি দেশ অস্ত্র বাড়ায় কারণ তার প্রতিবেশী অস্ত্র বাড়াচ্ছে; প্রতিবেশী অস্ত্র বাড়ায় কারণ প্রথম দেশটি অস্ত্র বাড়িয়েছে। এভাবে তৈরি হয় নিরাপত্তার এক অদ্ভুত দুষ্টচক্র।

শান্তি তখন দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়, আর সামরিক শক্তি হয়ে ওঠে মর্যাদা ও ক্ষমতার মাপকাঠি।

এই ধারণা বদলানো জরুরি।

একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার অস্ত্রভাণ্ডারের আকারে নয়; তার কূটনৈতিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, সামাজিক সংহতি এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষমতাতেও নিহিত।

শান্তি মানে শুধু যুদ্ধ না থাকা নয়

শান্তি নিয়ে আমাদের ধারণাটিও নতুন করে ভাবতে হবে।

একটি দেশে যুদ্ধ নেই, কিন্তু যদি মানুষ ক্ষুধার্ত থাকে, দারিদ্র্যে থাকে, বৈষম্যের শিকার হয়, ন্যায়বিচার না পায়, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে—তাহলে সেটিকে কি সম্পূর্ণ শান্তির সমাজ বলা যায়?

শান্তি শুধু বন্দুক নীরব থাকার নাম নয়। শান্তি মানে মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত হওয়া। শান্তি মানে ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা। শান্তি মানে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভয় না থাকা।

এই কারণে টেকসই শান্তির সঙ্গে উন্নয়ন, মানবাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়ের সম্পর্ক গভীর।

যে সমাজে তরুণের সামনে ভবিষ্যতের কোনো পথ নেই, সেখানে ক্ষোভ জমবে। যে সমাজে কোনো গোষ্ঠী দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার হবে, সেখানে সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হবে। যে সমাজে বিচার পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, সেখানে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে।

অন্যদিকে ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণ এবং সুযোগের সমতা শান্তির সামাজিক ভিত্তি তৈরি করে।

বাংলাদেশের শান্তির ভূমিকা

বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক শান্তির প্রশ্নটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ভূমিকা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিন্তু শান্তিরক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের ভেতরেও শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

শান্তি কেবল পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়; এটি আমাদের ঘরের বিষয়ও।

পরিবারে মতের অমিলকে সম্মান করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীকে অপমান না করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু না ভাবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ও অপমানের ভাষা পরিহার করা—এসবই শান্তির সংস্কৃতির ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন।

আমরা যদি সন্তানকে শেখাই যে ভিন্নমত মানেই শত্রু, তাহলে বড় হয়ে সে কীভাবে গণতান্ত্রিক সমাজে সহাবস্থান করবে?

আমরা যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দেশদ্রোহী হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হই, তাহলে রাজনৈতিক সংঘাত কীভাবে আলোচনার টেবিলে আসবে?

শান্তির সংস্কৃতি শুরু হয় মানুষের ভাষা থেকে।

দ্বৈত মানদণ্ডের পৃথিবীতে শান্তি কতটা সম্ভব?

আন্তর্জাতিক শান্তির সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো দ্বৈত মানদণ্ড।

এক দেশের বেসামরিক মানুষের মৃত্যু যদি মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়, অন্য দেশের বেসামরিক মানুষের মৃত্যু কেন কেবল ভূরাজনৈতিক হিসাবের অংশ হয়ে যাবে?

এক দেশের সার্বভৌমত্ব যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, অন্য দেশের সার্বভৌমত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। এক দেশের শিশুর জীবন যদি মূল্যবান হয়, অন্য দেশের শিশুর জীবনও সমান মূল্যবান।

আন্তর্জাতিক আইন তখনই মানুষের আস্থা অর্জন করবে, যখন তার প্রয়োগে পক্ষপাতের অভিযোগ কমবে। শক্তিশালী রাষ্ট্র ও দুর্বল রাষ্ট্রের জন্য আলাদা ন্যায়বিচার থাকলে শান্তির ওপর মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হবে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রশ্নও তাই গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর ক্ষমতার ভারসাম্য বদলেছে; আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোকেও সেই বাস্তবতার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে মানিয়ে নিতে হবে।

শান্তির জন্য শুধু বিবৃতি যথেষ্ট নয়। দরকার এমন কূটনীতি, যেখানে সংঘাতের আগেই সংলাপ শুরু হয়। দরকার মধ্যস্থতা, আস্থা তৈরির উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান।

যুদ্ধ থামানোর চেয়ে যুদ্ধ ঠেকানো কঠিন, কিন্তু জরুরি

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন। তাই যুদ্ধ থামানোর চেয়ে যুদ্ধের কারণগুলো আগে চিহ্নিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দারিদ্র্য, বৈষম্য, সম্পদের অসম বণ্টন, রাজনৈতিক বঞ্চনা, জাতিগত উত্তেজনা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, ভূখণ্ডের বিরোধ—এসব সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি কারণ হতে পারে।

সুতরাং শান্তির নীতি কেবল সামরিক কূটনীতি দিয়ে তৈরি করা যাবে না। শিক্ষা, উন্নয়ন, মানবাধিকার, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকেও শান্তির নীতির অংশ করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন এখানে নতুন চ্যালেঞ্জ। পানির সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা, বাস্তুচ্যুতি এবং সম্পদের ওপর চাপ ভবিষ্যতে বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত বাড়াতে পারে। ফলে জলবায়ু নীতি এবং শান্তি নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ ক্রমেই কমছে।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

শান্তি কোথা থেকে শুরু হবে?

শান্তির জন্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। দরকার কূটনৈতিক সংলাপ। দরকার আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান। দরকার অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। দরকার ন্যায়বিচার।

কিন্তু এর পাশাপাশি দরকার আমাদের নিজেদের পরিবর্তন।

কারণ একটি সমাজে মানুষ যদি সামান্য মতবিরোধেও সহিংস হয়ে ওঠে, তাহলে আন্তর্জাতিক শান্তির বড় বড় বক্তৃতা খুব বেশি অর্থ বহন করে না।

শান্তি শুরু হতে পারে একটি পরিবার থেকে। একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে। একটি রাজনৈতিক দলের আচরণ থেকে। একটি সংবাদপত্রের ভাষা থেকে। একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট থেকেও।

শান্তির সবচেয়ে বড় শত্রু শুধু যুদ্ধ নয়; ঘৃণাও।

ঘৃণা যখন স্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন সহিংসতা খুব বেশি দূরে থাকে না।

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস তাই আমাদের শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর দিকে তাকাতে বলে না; আমাদের নিজেদের ভেতরেও তাকাতে বলে। আমরা কি ভিন্নমত সহ্য করতে পারি? আমরা কি ক্ষমা করতে পারি? আমরা কি প্রতিপক্ষকে মানুষ হিসেবে দেখতে পারি? আমরা কি অন্যের অধিকারকে নিজের অধিকারের মতো মূল্যবান মনে করি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আমাদের শান্তির সংস্কৃতির গভীরতা নির্ধারণ করবে।

একটি যুদ্ধ থামাতে কখনো একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হয়। কিন্তু একটি যুদ্ধের বীজ রোপিত হয় বহু আগে—ঘৃণায়, বৈষম্যে, অবিচারে, অপমানের রাজনীতিতে এবং অন্যের অধিকারকে অস্বীকার করার সংস্কৃতিতে।

তাই শান্তির লড়াইও শুরু করতে হবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই।

শান্তি কোনো দুর্বলতার নাম নয়। শান্তি হলো শক্তির সবচেয়ে পরিণত রূপ—যে শক্তি প্রতিশোধের বদলে সংলাপ বেছে নেয়, দখলের বদলে সহযোগিতা বেছে নেয়, ঘৃণার বদলে মানবিকতা বেছে নেয়।

যুদ্ধের পৃথিবীতে আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সম্ভবত আরও শক্তিশালী অস্ত্র নয়, আরও শক্তিশালী নৈতিকতা; আরও বড় সামরিক জোট নয়, আরও কার্যকর সংলাপ; আরও কঠোর সীমান্ত নয়, আরও গভীর পারস্পরিক আস্থা।

মানচিত্রে সীমান্ত থাকবে, রাষ্ট্র থাকবে, স্বার্থ থাকবে—এসব বিলীন হবে না। কিন্তু মানুষের জীবনকে যদি সব রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক হিসাবের কেন্দ্রে রাখা যায়, তাহলে সংঘাতের মধ্যেও শান্তির পথ তৈরি হতে পারে।

কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো যুদ্ধের বিজয়ী থাকে না; থাকে শুধু কম বা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

শান্তি দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা তাই হয়তো এই—যুদ্ধ বন্ধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কিন্তু শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। পৃথিবীকে শান্ত করতে হলে আগে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শিখতে হবে।

শান্তির শেষ আশ্রয় কোনো অস্ত্রাগারে নয়, কোনো সামরিক জোটে নয়, কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রাসাদেও নয়। শান্তির শেষ আশ্রয় মানুষের বিবেক, ন্যায়বিচার, সংলাপ ও পারস্পরিক মর্যাদার মধ্যে।

যেদিন একটি শিশুর নিরাপদ ঘুমকে একটি রাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত বিজয়ের চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া হবে, যেদিন একটি নিরস্ত্র মানুষের জীবনকে ভূরাজনীতির হিসাবের বাইরে মানবিক সত্য হিসেবে দেখা হবে, যেদিন ভিন্নমতকে ধ্বংস করার বদলে বোঝার চেষ্টা করা হবে—সেদিনই হয়তো পৃথিবী সত্যিকারের শান্তির দিকে এক ধাপ এগোবে।

তার আগে পর্যন্ত আমাদের প্রশ্ন করেই যেতে হবে—যুদ্ধের এই পৃথিবীতে শান্তির শেষ আশ্রয় কোথায়?

উত্তরটি হয়তো দূরে কোথাও নয়। আমাদের নিজেদের মধ্যেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।

drharun.press@gmail.com

এইচআর/জেআইএম