পাশের বন্ধু ফ্রিতে মেসেজ পাঠাচ্ছে, আপনার এসএমএসে টাকা কাটছে কেন

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

গত সপ্তাহে ফোনের ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে দেখলাম, কয়েকটা এসএমএস পাঠানোর জন্যই কয়েক টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। অথচ ঠিক তখনই পাশে বসা এক বন্ধু একের পর এক মেসেজ পাঠাচ্ছিল, একটা টাকাও তার কাটছে না। ২০২৬ সালে এসেও এসএমএসের জন্য টাকা গুনতে হচ্ছে, ব্যাপারটা কি একটু অদ্ভুত লাগে না? উত্তরটা লুকিয়ে আছে একটা প্রযুক্তিতে, যার নাম আরসিএস (RCS)। এটা আমাদের হাতে থাকা ফোনেও আছে, শুধু কাজ করছে না।

আরসিএস আসলে কী

আরসিএস মানে রিচ কমিউনিকেশন সার্ভিসেস, সহজ ভাষায় এসএমএসের আধুনিক সংস্করণ বলা যায়। এতে গ্রুপ চ্যাট করা যায়, বড় সাইজের ছবি-ভিডিও পাঠানো যায়, টাইপিং ইন্ডিকেটর দেখা যায়, রিড রিসিট আসে, স্টিকার আর ইমোজিও পাঠানো যায় সহজে। সবচেয়ে বড় সুবিধা, এসএমএসের মতো প্রতি মেসেজে টাকা কাটে না, মোবাইল ডাটা বা ওয়াইফাই দিয়েই চলে। গুগল মেসেজেস অ্যাপে এই ফিচারগুলো আছে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ব্যবহার করতে গেলে অ্যাপ জানিয়ে দেয়, আপনার অপারেটর আরসিএস সাপোর্ট করে না।

গুগল সরে দাঁড়িয়েছে, দায়িত্ব এখন অপারেটরদের

এতদিন এই সমস্যা হতো না। গুগল নিজেদের জিবে (Jibe) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরসিএস-এর ব্যাকএন্ড নিজেই চালাতো, ফলে অপারেটর কিছু না করলেও গুগল মেসেজেস ব্যবহারকারীরা আরসিএস পেয়ে যেতেন। সম্প্রতি গুগল এই দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে, আরসিএস এখন থেকে চলবে অপারেটরদের নিজস্ব সার্ভারে, ঠিক যেভাবে তারা এসএমএস সার্ভার চালায়। যেসব অপারেটর নিজে থেকে আরসিএস বসায়নি, তাদের ব্যবহারকারীরা রাতারাতি এই সুবিধা হারিয়েছেন।

অ্যান্ড্রয়েড অথোরিটির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তালিকায় সবার আগে আছে বাংলাদেশ, সঙ্গে পাকিস্তান আর কেনিয়া। কেন এই তিনটে দেশ? হিসাবটা আসলে সহজ। এসএমএসে প্রতি মেসেজে সরাসরি আয় হয়, আরসিএস-এ সেই আয় নেই। তাই নিজের টাকা খরচ করে আরসিএস সার্ভার বসানোর তাগিদ অপারেটরদের কাছে কম। বাংলাদেশের কোনো অপারেটর বা বিটিআরসি এখনো পর্যন্ত আরসিএস নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো রোডম্যাপ বা বিবৃতি দেয়নি।

দুনিয়া যখন এগিয়ে যাচ্ছে

এদিকে আরসিএস নিয়ে বাকি দুনিয়া এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। আইফোনে আরসিএস সাপোর্ট এসেছিল ২০২৪ সালে, আর এই বছরের মে মাসে আইওএস ২৬.৫ আপডেটের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড আর আইফোনের মধ্যে আরসিএস মেসেজে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনও চালু হয়ে গেছে। গ্রিন বাবল, ব্লু বাবলের পুরোনো বিভেদ ঘুচে যাওয়ার পথে, অন্তত যেসব দেশে অপারেটর আরসিএস সাপোর্ট করে। বাংলাদেশ থেকে এই সুবিধার কিছুই এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

এখন করণীয় কী

আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের ওপর ভরসা রাখা ছাড়া উপায় নেই। মাঝেমধ্যে ফোনের গুগল মেসেজেস সেটিংসে গিয়ে চেক করে নেওয়া যায় আরসিএস চালু হয়েছে কিনা, কারণ পরিস্থিতি বদলাতে পারে যে কোনো সময়। তবে শুধু অপেক্ষা করে থাকাটাই একমাত্র রাস্তা না। গ্রাহক হিসেবে প্রশ্ন তোলার অধিকার আমাদের আছে। অপারেটরদের সামাজিক মাধ্যম পেজে, কাস্টমার কেয়ারে বা বিটিআরসির কাছে আরসিএস নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু হলে একটা চাপ তৈরি হবে। প্রতিটা দেশে অপারেটররা আরসিএস বসিয়েছে গ্রাহকের চাহিদা দেখেই, বাংলাদেশেও একই নিয়ম খাটার কথা। যতদিন না গ্রাহকরা সরব হচ্ছেন, ততদিন এসএমএসের জন্য টাকা কাটা চলতেই থাকবে।

কেএসকে